যুবলীগের ভাবমূর্তি ফেরাতে প্রয়োজনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য পদ ছাড়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করে অধ্যাপক মীজানুর রহমান বলেছেন, পদাধিকারবলে তার এখন সংগঠনটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন আগামী ২৩ নভেম্বর। চলমান দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে বিতর্কের মুখে পড়া যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে ছাড়াই এই সম্মেলন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার বেসরকারি একটি টেলিভিশনের টকশোতে জবি উপাচার্য মীজানুর বলেন, ‘যুবলীগের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাকে যুবলীগের দায়িত্ব দিলে আমি উপাচার্য পদ ছেড়ে দিয়ে দায়িত্ব নেব।’ তার এই বক্তব্য নিয়ে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গতকাল শনিবার এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমি যুবলীগের এক নম্বর প্রেসিডিয়াম সদস্য বা এক নম্বর সহসভাপতি। উপাচার্য হওয়ার পর আমি আমার পদ থেকে পদত্যাগ করিনি বা আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। পদাধিকারবলে এখন আমার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। এখন যদি আমাকে যুবলীগের চেয়ারম্যান করে দেওয়া হয়, তাহলে আমি উপাচার্যের দায়িত্ব ছেড়ে দেব। যুবলীগ আমার একটি প্রিয় সংগঠন। বর্তমানে যুবলীগের অনেক দুর্নাম রয়েছে। প্রিয় সংগঠনের দুর্নাম দূর করার জন্য যদি আমাকে স্যাকরিফাইজ করা লাগে তাহলে আমি তাই করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি উপাচার্য হওয়ার পর যুবলীগের কোনো মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করিনি। রবিবার গণভবনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মিটিং রয়েছে, সেখানেও অংশগ্রহণ করব না।’
ষাটোর্ধ্ব এই অধ্যাপকের যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অনেক দিনের। তবে ২০১৩ সালে জগন্নাথের উপাচার্য হওয়ার পর আর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন বলে জানিয়েছেন তিনি।
অধ্যাপক মীজান বলেন, ‘যুবলীগের রাজনীতি আমি দীর্ঘদিন ধরে করি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে যুবলীগের কোনো কর্মকাণ্ডে যাইনি।’
ওমর ফারুক চৌধুরীকে ছাড়াই সম্প্রতি সংগঠনটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের বৈঠক হয়েছে। এ প্রসঙ্গ তুলে ধরে মীজানুর রহমান বলেন, ‘ওমর ফারুক চৌধুরী চেয়ারম্যানের দায়িত্বে না থাকলে এক নম্বর সহসভাপতি হিসেবে আমিই দায়িত্বে আসি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যুবলীগের দায়িত্ব দিলে ভিসির পদ ছাড়তে আমি রাজি আছি।’