মুক্তিপণ না পেয়ে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের কাদিমাকাটা গ্রামের ওমান প্রবাসী রুহুল কাদেরের শিশুপুত্র আরাফাতকে অপহরণকারীরা গলাটিপে হত্যা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পেকুয়া থানা পুলিশ গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের নাপিতারদ্বিয়া এলাকার ফসলি জমি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আরাফাত বারাইয়াকাটা নুরানী মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সে কাদিমাকাটা এলাকা থেকে অপহৃত হয়। এরপর পুলিশ গত শুক্রবার অভিযান চালিয়ে অপহরণের ঘটনায় জড়িত দুজনকে আটক করে। তারা হলো পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মিয়াজীপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আবদুল কাদের (১৬) ও একই ইউনিয়নের দরদরীঘোনা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে রায়হান (১৮)। রায়হান আরাফাতের খালাত ভাই।
পেকুয়া থানা পুলিশের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা গেছে, আটক হওয়া ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি মতে আরাফাত ১৭ অক্টোবর বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়। আবদুল কাদের, রায়হানসহ কয়েকজন তাকে অপহরণ করে সিএনজিযোগে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে তারা শিশুটির খালা গোলতাজ বেগমের মাধ্যমে অপহরণের খবর তার মাকে পৌঁছায়। এ সময় অপহরণকারীরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে মুক্তিপণের বিষয়টি পুলিশ অবগত হলে অভিযান চালিয়ে পেকুয়া সদরের মাতবরপাড়া গ্রাম থেকে গত শুক্রবার সকালে আবদুল কাদেরকে আটক করে। ওইদিন দুপুরে রায়হানকে মগনামা দরদরীঘোনা থেকে আটক করা হয়।
পেকুয়া থানার পুলিশের ওসি কামরুল আজম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, দাবি করা মুক্তিপণ না পেয়ে অপহরণের দিন-রাতের যেকোনো সময়ে অপহরণকারীরা আরাফাতকে গলাটিপে হত্যা করে মগনামা নাপিতারদিয়া এলাকার ধানি জমিতে ফেলে রাখে। সেখান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অপহৃত আরাফাতকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ অভিযানে যায়। তারা একেক সময় একেক বার্তা দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে। অপহরণকারী রায়হানের আপন খালাত ভাই আরাফাত। এ ব্যাপারে নিহত আরাফাতের পরিবার থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।