অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশকে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নিয়ে যেতে দক্ষতার ঘাটতি মেটাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। এটি উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ হওয়ার পথে একটি বড় অন্তরায়। প্রতি বছর ২.২ মিলিয়ন কর্মক্ষম ব্যক্তি শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, যার বেশিরভাগই অদক্ষ। দেশে বিদেশের বাজার চাহিদা অনুসারে তারা প্রস্তুত নয়। ফলে বেশিরভাগ বেকার থাকেন বা উপযুক্ত দক্ষতার অভাবে দেশ-বিদেশে স্বল্প আয়ের চাকরিতে নিযুক্ত হন। কারণ তারা চাকরির বাজারের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ।
গতকাল রবিবার জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) সোনারগাঁও হোটেলে ‘দক্ষতা বিকাশের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় বক্তারা দক্ষতা বিকাশে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দিয়ে এসব কথা বলেন। কর্মশালায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা বিশেষজ্ঞর পাশাপাশি উচ্চ সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগীরা কর্মশালায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) মো. ফারুক হোসেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। যদিও প্রতি বছর ২.২ মিলিয়ন যুবক চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু তারা দক্ষ হিসেবে প্রবেশ করছে না। ২০২০ সালের মধ্যে দেশীয় দক্ষ শ্রম চাহিদা ৭২.৪১ মিলিয়নে দাঁড়াবে। এর মধ্যে কৃষিতে ২.৯ মিলিয়ন, নির্মাণ খাতে ৪.৪২ মিলিয়ন এবং তৈরি পোশাক খাতে ৫.৯৮ মিলিয়ন। পোশাক খাতের পর কৃষি খাতে দক্ষতার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি হবে।
অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে মধ্যপর্যায়ে অনেক বিদেশি কর্মরত, যা আমাদের জন্য দুঃখজনক। কীভাবে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করে দেশি শিল্পে নিয়োজিত করা যায় সেই কৌশল ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু বিদেশের বাজারের জন্য দক্ষতা নয়, দেশি শিল্প উপযুক্ত শ্রমিক তৈরি করতেও কর্মপন্থা হাতে নেওয়া জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে জনবল পাঠাতে যে দক্ষ কর্মী তৈরি করা হয়, সমন্বয়ের অভাবে শতভাগ পাঠানো যায়নি বলে মনে করেন তিনি।
সূচনা বক্তব্যে মো. ফারুক হোসেন বলেন, সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের দেওয়া জাতীয় দক্ষতা প্রশিক্ষণগুলোতে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দক্ষতা বিকাশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৯-এর আওতাধীন এনএসডিএ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারের চাহিদা মেটাতে উপযুক্তভাবে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের জন্য জাতীয় দক্ষতার একটি অ্যাকশন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে চলেছে যোগ করেন তিনি।