পৃথিবীর ইতিহাসে গুজবের ইতিহাস অনেক পুরনো। সাধারণত মুখে মুখে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে গুজব। কিন্তু আধুনিক সময়ে গুজবের জনপ্রিয় বাহন হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফলে অতীতের তুলনায় গুজব এখন অনেক দ্রতগামী। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বেশ কয়েকটি গুজবের ঘটনা মানুষের জানমালের বিপুল ক্ষতিসাধন করেছে। ইতিহাসের আলোচিত কয়েকটি গুজব নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি
রাজা পঞ্চদশ লুইয়ের শিশু অপহরণ
১৭৫০ সালের কথা। সেবার ফ্রান্সে প্যারিসের রাজধানী থেকে প্রায়ই হারিয়ে যাচ্ছিল শিশুরা। এসব শিশু হারিয়ে কোথায় যাচ্ছে, কিংবা কেন হারাচ্ছে সে সম্পর্কে কারোরই কোনো ধারণা ছিল না। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা উপায়ান্তর না দেখে রাস্তায় বিক্ষোভ, দাঙ্গার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এমন বিশৃঙ্খলার মধ্যেই একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষুব্ধদের মধ্যে রটে যায় যে, রাজা পঞ্চদশ লুই কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এই রোগের হাত থেকে মুক্তির জন্য তিনি শিশুদের অপহরণ করাচ্ছেন। শিশুদের রক্ত দিয়ে তিনি প্রতিদিন গোসল করেন। তখনকার দিনে কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা হিসেবে শিশুদের রক্ত দিয়ে গোসল করার একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত ছিল। গুজব ছড়িয়ে যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়ে যায় এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
গুজবটি সত্য ভেবে নেওয়ার একটি কারণও ছিল। সেই সময়টিতে কর্র্তৃপক্ষ রাজপথ থেকে অবাঞ্ছিতদের অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল। কাজটা যাতে যথাযথভাবে হয় সেজন্য পুলিশ বাহিনীকে প্রত্যেকটি গ্রেপ্তারের জন্য অর্থ দেওয়া হতো। যত বেশি গ্রেপ্তার তত টাকা। অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যরা গণহারে শিশুসহ সাধারণ মানুষকেও গ্রেপ্তার শুরু করে এবং তাদের সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। পরে দেখা যায়, অপহৃত শিশুদের সবাই তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরে এসেছিল। জনঅসন্তোষ থেকে রেহাই পেয়েছিলেন লুইও।
ভূমিকম্পে ধ্বংস হবে লন্ডন
১৭৬১ সালের শুরুতেই দুটি ছোট ভ‚মিকম্প আঘাত হানে লন্ডনে। এ ঘটনায় লন্ডনের মানুষের মধ্যে একটি ভ‚মিকম্পভীতি ছড়িয়ে পড়ে। এমন ভীতিকর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে একটি গুজব। বলা হচ্ছিলÑ ঘটে যাওয়া ভ‚মিকম্প দুটি আসলে একটি বড় ভ‚মিকম্পের পূর্বাভাস। বড় ভ‚মিকম্পটি অনুষ্ঠিত হবে ওই বছরের ৫ এপ্রিল। কথিত এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তি এই বিপর্যয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। লন্ডনের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভবিষ্যদ্বাণী দারুণ প্রভাব ফেলে। কারণ সে সময় ভ‚মিকম্প সম্পর্কিত জ্ঞান এবং বিজ্ঞান এতটা আধুনিক ছিল না।
গুজবের ফলে অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, কথিত ভ‚মিকম্পের দিন তথা ১৭৬১ সালের ৫ এপ্রিল অসংখ্য মানুষ লন্ডন ত্যাগ করে অন্যান্য শহরে গিয়ে অবস্থান নেয়। আর যারা অন্য শহরে গিয়ে অবস্থান করার মতো সামর্থ্য ছিল না তাদের অধিকাংশই উন্মুক্ত মাঠগুলোতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। কিন্তু তারা কেউই শেষ পর্যন্ত ভ‚মিকম্পের দেখা পায়নি। মধ্যরাতের পর থেকে মানুষ একে একে বাসায় ফিরতে শুরু করেন।
গুজবের উৎপত্তি সম্পর্কে জানা যায়, ওই ভবিষ্যদ্বাণী শুনে এক সৈনিক তাৎক্ষণিকভাবে এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন যে, তিনি রাস্তায় রাস্তায় দৌড়ে চিৎকার করে আসন্ন ভ‚মিকম্পের খবরটি সাধারণ মানুষকে জানিয়েছিলেন। দুঃখজনক হলো কয়েক মাস পর ওই সৈনিকের ঠাঁই হয় একটি পাগলা গারদে।
খ্রিস্টানদের কুয়ায় ইহুদিদের বিষ
গুজবের সঙ্গে ধর্মীয় সম্পৃক্ততা থাকলে তা মানুষের মাঝে অনেক তাড়াতাড়ি এবং ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে দেশে এই ধরনের গুজব পরিস্থিতি ঘন ঘন দেখা যায়। গুজবের ওপর ভিত্তি করে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গাও সংঘটিত হতো একসময়। তবে, এই ঘটনাটি মধ্যযুগের। সে যুগে অনেকের মধ্যেই বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে ইহুদিরা খ্রিস্টান শিশুদের বলি দেয়। কিন্তু কালো প্লেগের যুগে এই ধরনের গুজব বিশাল ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছিল।
চতুর্দশ শতকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, ইহুদিরা খ্রিস্টানদের কুয়ার পানিতে বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে, এর বদলে ইহুদিদের প্লেগের হাত থেকে রক্ষা করছে শয়তান। এমন গুজবে কয়েক হাজার ইহুদিকে প্রাণ দিতে হয় খ্রিস্টানদের হাতে। কুয়ায় বিষ ছড়ানোর গুজবে ১৩২১ সালে শুধু ফ্রান্সের গিয়েনেতেই ৫ হাজার ইহুদিকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলেও ইহুদি নিধনের পাশাপাশি তাদের সমাজ থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং অসংখ্য ইহুদি বসতি আগুনে পুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কুয়ায় বিষ ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত করে জার্মানির ব্রান্ডেনবার্গে ইহুদিবিরোধী একটি আইনও পাস হয়। যদিও কুয়ায় বিষ ছড়ানোর দাবিটি আজও প্রমাণ হয়নি।
গুজবের শিকার ফ্রান্সের ডাকাত দল
১৭৮৯ সালের জুলাই মাসে ফরাসি বিপ্লবের সময় এক ভীতিকর এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গুজব রটে যে, বিপ্লববিরোধী অভিজাত শ্রেণি কুখ্যাত ডাকাত দল ব্রাইগান্ড সদস্যদের নিয়োগ করেছে কৃষকদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য। ব্রাইগান্ডরা কৃষকদের সংরক্ষিত খাদ্য চুরি-ডাকাতি করে নিয়ে যাচ্ছে।
ব্রাইগান্ডদের সম্পর্কে নানা ভীতিকর খবর পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এর ফলস্বরূপ ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রাদেশিক শহর এবং প্রত্যন্ত গ্রামেও সৈন্যবাহিনী মোতায়েন করা হয়। যদিও এ সম্পর্কে ইতিহাসবিদ জর্জ ল্যাফেব্রে বলেন, ‘সাধারণ মানুষই নিজেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছিল।’
১৭৮৯ সালের ২৪ জুলাইয়ের একটি ঘটনা থেকে জানা যায়, সেদিন একটি ব্রাইগান্ড দলকে বনের ভেতর দিয়ে যেতে দেখা যায়। এই খবরটি নিমেষেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ৩/৪ হাজার উন্মত্ত মানুষ তাদের পিছু ধাওয়া করে। কুখ্যাত ডাকাত দলটি জনরোষের কবলে পড়ে একটি পশুপালের মতো পরিণতি হয়।
কানাডায় জার্মানি ও আমেরিকার আক্রমণ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা অংশ নেওয়ার আরও তিন বছর আগে ১৯১৪ সালেই অংশ নেয় কানাডা। মধ্যবর্তী ওই তিন বছরে একটি গুজব ছড়ায় যে, জার্মানি এবং আমেরিকা যৌথভাবে কানাডাই একটি অতর্কিত আক্রমণের পরিকল্পনা করেছে।
এই ধরনের গুজব ছড়ানোয় মুখ্য ভ‚মিকা রেখেছিলেন ব্রিটিশ কনসাল জেনারেল স্যার কোর্টনি বেনেট। আমেরিকায় তিনি ব্রিটিশ কনসাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯১৫ সালের প্রথম দিকে বেনেট তথাকথিত ওই আক্রমণের পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পর্শকাতর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে নায়াগ্রা ফলস এবং বাফেলোতে অবস্থান করা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ৮০ হাজার সদস্যের একটি জার্মান বাহিনী কানাডা আক্রমণের পরিকল্পনা করেছে।
এ ধরনের গুজবে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্যার রবার্ট বোর্ডেন। কিন্তু বাস্তবে এরকম কিছুই হয়নি। আমেরিকা-জার্মানি কানাডা আক্রমণ করেনি। যুদ্ধবিগ্রহের সময় এ ধরনের গুজব প্রায়ই ছড়িয়ে পড়ে।
ইন্দোনেশিয়া সরকারের মানুষ বলি
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মতো ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ মানুষও বিশ্বাস করে কিংবা এক সময় বিশ্বাস করত যে, বড় ধরনের কনস্ট্রাকশন কাজে মানুষের মাথার প্রয়োজন হয়। এসব মাথা উৎসর্গ করা হয় যেন স্থাপনাটি ধসে না পড়ে।
১৯৩৭ সালে ইন্দোনেশিয়ার একটি দ্বীপ থেকে গুজব রটে যে, একটি তিজলিক বাহিনী (মানুষ শিকারের জন্য সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত বাহিনী) স্থানীয় একটি জেটি নির্মাণকাজের জন্য মানুষের মাথা সংগ্রহ করছে। এজন্য এক ধরনের ফাঁস ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রথমে হত্যা করে তিজলিকরা। পরে তার মাথাটি কেটে নিয়ে যায়। এ ধরনের গুজবে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়।
১৯৭৯ সালে একই ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে দেশটির বোর্নিও দ্বীপে। সে সময় একটি সেতু নির্মাণকাজের জন্য সরকারি বাহিনী সাধারণ মানুষের মাথা খুঁজে বেড়াচ্ছে বলে গুজব রটে।
১৯৮১ সালে বোর্নিও দ্বীপে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। একটি তেলক্ষেত্রের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অসংখ্য মানুষের মাথা প্রয়োজন বলে গুজব রটে। ওই সময়গুলোতে নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলো ছাড়াও সমগ্র ইন্দোনেশিয়ায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনায় বিশেষ প্রয়োজন না হলে মানুষ ঘর থেকে বের না হওয়া ছাড়াও একা একা চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে, এই ধরনের প্রত্যেকটি গুজব মাস দুয়েকের ব্যবধানে স্তিমিত হয়ে যেত।
কামোদ্দীপক চুইংগাম
এই গুজবের জন্মস্থান মধ্যপ্রাচ্য। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে রটে যায় এক ধরনের কামোদ্দীপক চুইংগামের গল্প।
১৯৯৬ সালে মিসরের মানসুরায় গুজব ছড়াতে শুরু করে যে, শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশেষ ধরনের একটি চুইংগাম কিনছে, যা তীব্র কামোত্তেজনার সৃষ্টি করে। এও রটে যে, ওইসব চুইংগাম চিবিয়ে শিক্ষার্থীরা যত্রতত্র যৌনতা করে বেড়াচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশটির একজন সংসদ সদস্য মন্তব্য করেন, মিসরে এ ধরনের কামোদ্দীপক চুইংগাম ছড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলি সরকার। তারা মিসরের যুব সমাজকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে। মসজিদে মসজিদে এই ধরনের চুইংগামের বিরুদ্ধে মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক করা হয়। কথিত ওই চুইংগামটি অ্যারোমা নামে বিক্রি হচ্ছিল। চুইংগাম বিক্রির অভিযোগে সরকার বেশ কয়েকটি স্টোর বন্ধ করে দেওয়া ছাড়াও অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার করে। যদিও তাদের কারও কাছ থেকেই শেষ পর্যন্ত অ্যারোমা চুইংগাম সম্পর্কে কোনো তথ্য উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয় সরকারি বাহিনী।
একই বছরে যৌনোদ্দীপক চুইংগামের গুজব ছাড়ায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়ও। এক্ষেত্রে রটনা ছড়ানো হয় একটি স্ট্রবেরি চুইংগামের কথা। বলা হচ্ছিল- এই চুইংগামটি খেয়ে অনেক নারী পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। ধারণা করা হতো, ওইসব পতিতা ফিলিস্তিনিদের অনেক গোপন খবর পাচার করে দিচ্ছে ইসরায়েলি সৈন্যদের কাছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাদুকরী বিদ্যা
১৯৯৮ সালের শরতে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে জাদুকরী মানুষের গুজব বেশ কয়েকজন নিরীহ গ্রামবাসীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। ওই বছরটিতে রাজনৈতিক দোলাচলে ছিল ইন্দোনেশিয়া। দেশটির বড় বড় শহরগুলোতে সরকারবিরোধী আন্দোলন করছিল দেশটির সাধারণ মানুষ। ঠিক এই সময়টিতেই দেশটির বানিয়াঙ্গি অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদে কালা জাদুকরদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে যেসব মানুষের ওপর কালা জাদুকরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে নিয়ে আসার নির্দেশ দেয় জেলা কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু গুজবে উন্মত্ত জনতা পুলিশ স্টেশন থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় অভিযুক্তদের এবং নৃশংসভাবে গণপিটুনি দিয়ে তাদের হত্যা করে।
এই গুজব নিয়ে পরে তদন্তকারীদের অনুসন্ধানে জানা যায়, সে সময় কেউ যদি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ত তবে প্রায় সময়ই তার প্রতিবেশীর ওপর কালা জাদুকরবৃত্তির অভিযোগ আনত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হয় যে, এমন অভিযোগে প্রাণ যাওয়া সব মানুষই ছিলেন সাধারণ মানুষ। জাদুকরবৃত্তির সঙ্গে তাদের কোনো যোগ ছিল না।
হোয়াইট হাউজ বিস্ফোরণে আহত ওবামা
গুজব ছড়ায় আমেরিকায়ও। ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)-এর টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এক বার্তায় জানানো হয় হোয়াইট হাউসে একটি বিস্ফোরণ হয়েছে এবং এতে গুরুতর আহত হয়েছেন দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এই খবরের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ব অর্থবাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়ে এবং অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস-৫০০ ইনডেক্স ১৩০ বিলিয়ন ডলার লোকসানে পড়ে। এমন পরিস্থিতির শিকার হয় আরও বেশ কয়েকটি ইনডেক্স। তবে, শিগগিরই এই পতন থেমে যায়, যখন সবাই জানতে পারে যে, ওবামা গুরুতর আহত হওয়ার খবরটি আসলে ভুয়া। হোয়াইট হাউজে কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। আসল ব্যাপার হলো এপি’র টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। হ্যাকাররাই মূলত ভুয়া খবরটি প্রকাশ করে।