গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বিষয়ে গ্রামীণফোনের সালিশি আবেদনে (আরবিট্রেশন) সাড়া দেয়নি হাইকোর্ট। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীদের করা আবেদনটি গতকাল সোমবার খারিজ করে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ। বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শরীফ ভুঁইয়া ও তানিম হোসেইন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক আদেশে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির ওই পাওনা আদায়ে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাইকোর্ট। এ আদেশের বিরুদ্ধে গত রবিবার আপিল বিভাগে আবেদন করে বিটিআরসি। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ২৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দিন ঠিক করেন।
বিটিআরসির দাবি, যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। বেশ কয়েক দফা চেষ্টার পর সেই টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিস পাঠানো হয়। ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা ও এর সুদবাবদ এই টাকা দাবি করে গত ২ এপ্রিল চিঠি পাঠায় বিটিআরসি। তবে টাকার অঙ্ক নিয়ে আপত্তি জানায় গ্রামীণফোন ও রবি।
বিটিআরসি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে রাজি না হওয়ায় গত ২৫ আগস্ট রবি এবং ২৬ আগস্ট গ্রামীণফোন ঢাকার দেওয়ানি আদালতে মামলা করে। পাওনা আদায়ে বিটিআরসির দাবিকে ‘অযৌক্তিক ও ত্রুটিপূর্ণ’ বর্ণনা করে মীমাংসার দাবি জানায় প্রতিষ্ঠান দুটি। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের উদ্যোগে এ বিষয়ে সমাধান খুঁজতে বৈঠকে সমঝোতার উদ্যোগ হলেও তা থমকে যায়।