জয়পুরহাটে হত্যা ও নাশকতার দায়ে পুলিশের করা মামলায় নির্বাহী আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামায়াত-বিএনপির ৬১ নেতাকর্মীর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল বাহার এ রায় দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা হরতালে জয়পুরহাটের পুরানাপৈল বাজারের কৃষি ব্যাংকে পেট্রল বোমা হামলা করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।
এসময় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির টহল দল বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর তীর-ধনুক নিয়ে হামলা করে অভিযুক্তরা। পরে প্রশাসনের বাধায় পিছু হটে পুরানাপৈলের হালট্টি এলাকায় মসজিদের মাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ করতে দলের অন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তারা। এতে বিএনপি-জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মী তীর-ধনুক নিয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও পেট্রল বোমা ছুড়তে থাকে। এসময় তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে নিজেদের গুলিতেই দলীয় ৫ জন নেতাকর্মী নিহত হয়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ওই সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
এ ঘটনায় জয়পুরহাট সদর থানায় পুলিশ ১০৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে তদন্তশেষে ২০১৯ সালের জুন মাসের ২০ তারিখে ৯৯ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৬১ জন আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী মামুনুর রশীদ দেশ রূপান্তরকে জানান, ৯৯ জন আসামির মধ্যে ৬১ জন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে। ৩ জন উচ্চ আদালতের জামিন নিয়েছে আর ২ জন আসামি মৃত্যুবরণ করেছে। বাকিরা পলাতক।