বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে মহাসমাবেশ ডেকে গতকাল বুধবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এলেও পুলিশের বাধায় তা করতে পারেননি শিক্ষকরা। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হওয়া শিক্ষকদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। তবে লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ বলছে, অনুমতি না থাকায় শহীদ মিনার থেকে শিক্ষকদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
পরে শিক্ষকদের একাংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সেখানে দাবি মানা না হলে আগামী সমাপনী ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে বিদ্যালয়ে তালা ঝোলানোর হুমকি দেওয়া হয়।
এর আগে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকালে সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার শিক্ষক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হতে
থাকেন। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের কর্মসূচি পালন না করতে অনুরোধ করেন। শিক্ষকরা সমাবেশ করতে অনড় থাকলে এক পর্যায়ে চড়াও হয় পুলিশ। পরে লাঠিচার্জ করলে শিক্ষকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এ সময় অনেকেই শহীদ মিনারে শুয়ে প্রতিবাদ করেন।
পরে কার্জন হলের সামনের সমাবেশে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্যপরিষদের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি বদরুল আলম বলেন, ‘শহীদ মিনারে পুলিশ শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। সমাবেশ করতে দেয়নি। পরে এখানে সমাবেশ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশের লাঠিচার্জে সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেরা খাতুনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি আতিকুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।’
প্রাইমারি শিক্ষক পরিষদের আহŸায়ক আনিসুর রহমান বলেন, ‘সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের জন্য দশম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেডের ঘোষণা ২০১৭ সালে দেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রাইমারি শিক্ষকরা সমাবেশ করতে চাইলেও পুলিশের বাধার কারণে পারেনি।’ হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামী সমাপনী ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে স্কুল তালা ঝুলিয়ে দেব।’
সমাবেশ না করতে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষকদের সমাবেশের অনুমতি ছিল না। এজন্য তাদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সরে যেতে অনুরোধ করা হয়। তারা চলে যান। সেখানে কোনো ধরনের লাঠিচার্জ কিংবা কাউকে আঘাত ও আটক করা হয়নি।’