থমকে যাওয়া ইউলুপ নির্মাণ শুরু করতে চায় ডিএনসিসি

ঢাকার যানজট কমাতে সাতরাস্তা থেকে উত্তরা পর্যন্ত সড়কে ১১টি ইউলুপ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের। ২০১৬ সালে হাতে নেওয়া প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু আনিসুল হকের মৃত্যুর পর এ কাজ থমকে যায়। দেড় বছর আগে প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে উদ্যোগ নেয়নি কেউ। এবার প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিসি। নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) বলা হয়েছে, মেয়াদ ও ব্যয় বাড়াতে হবে। তবে মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কারণে ১১টি ইউলুপের মধ্যে ৩টি নির্মাণ সম্ভব হবে না, যা ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়নি।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ ২০১৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অগ্রগতি না থাকায় এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ বর্ধিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে গত দেড় বছর আগে। প্রকল্পের কাজ থমকে যাওয়ায় এই মেয়াদ বাড়ানোরও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এবার প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিসি। এজন্য নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুসারে, এই ১১টি ইউলুপ নির্মাণকাজ শেষ করতে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আগে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। নতুন সংশোধনী প্রস্তাবে এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ হিসাবে ব্যয় বাড়ছে ৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেয়র আনিসুল হক মৃত্যুর পর এই কাজ এগিয়ে নিতে কেউই দায়িত্ব নেয়নি। ফলে কাজও এগোয়নি। কিন্তু এখন কাজ হবে। যানজট নিরসনে এটি গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কারণে ১১টি ইউলুপের মধ্যে ৩টির নির্মাণ সম্ভব হবে না। এর বাইরে বাকিগুলো করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তাহলে ব্যয় কেন বাড়ছেÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পে ইউলুপের সংখ্যা কমলেও ব্যয় কেন বাড়ছে, সেটা বলা যাচ্ছে না। নিশ্চয়ই বড় কোনো কারণ রয়েছে। দেখে

বলতে হবে।’

ডিএনসিসি বলছে, ইংরেজি বর্ণ ‘ইউ’য়ের মতো দেখতে এই পদ্ধতিকে সংক্ষেপে বলা হচ্ছে ‘ইউলুপ’। এর খরচ কম ও কম সময়ে কার্যকর পদ্ধতি। শুধু কথা নয়, যত দ্রæত এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, তত দ্রæতই এর সুফল মিলবে। রাজধানীর সাতরাস্তা, নাবিস্কো, মহাখালী বাস টার্মিনাল, মহাখালী ফ্লাইওভার, বনানী ওভারব্রিজ, কাকলী, উত্তরা র‌্যাব কার্যালয়, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং, রাজল²ী হয়ে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত এই ১১টি ইউলুপ নির্মাণের স্থান নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এর মধ্যে তিনটি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও নতুন করে প্রস্তাবিত ডিপিপিতে কথা বলা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ দেড় বছর স্থবির হয়ে থাকার পেছনে কারণ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর পেছনেও যৌক্তিক কারণ রয়েছে। বিস্তারিত বলতে হলে সময় লাগবে এবং মূল কাগজপত্র দেখতে হবে।’

পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো ডিপিপি থেকে জানা গেছে, ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে জমি বুঝে না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। সংস্থাগুলোর অসহযোগিতা ও কাজ করার সময়ে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয় ডিএনসিসি। ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত মোট বরাদ্দের মধ্যে মাত্র ৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ২৫ শতাংশ।

প্রকল্পের প্রস্তাবনা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, আগে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছিল। এ সময় ঠিকমতো কার্যক্রম হাতে নিলে নতুন করে প্রকল্প সংশোধনের প্রয়োজন হতো না। এছাড়া প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদকাল ১৬ মাস অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পর নতুন সংশোধনী প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য। যার জন্য ডিএনসিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

অন্যদিকে নিয়ম অনুসারে ২৫ কোটি টাকার প্রকল্পে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আলোচ্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে সেটা করা হয়নি। এছাড়া নতুন প্রস্তাবে বেশকিছু ত্রæটি-বিচ্যুতি রয়েছে। এগুলোও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত-পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন উইং-২-এর যুগ্ম প্রধান রেজাউল আযম ফারুকী বলেন, প্রকল্পটি রাজধানীর যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেন এতদিন বাস্তবায়ন হয়নি, সেটা প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। যথাযথ উত্তর পেলে প্রকল্পটি চ‚ড়ান্ত অনুমোদনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী নিজস্ব ক্ষমতাবলে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের অনুমোদন দিতে পারেন। এ প্রকল্পের জন্য সেটাই করা হবে।