ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে থাকা ফেনীর সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রত্যাশা সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে নভেম্বরের মধ্যে এ মামলার রায় হতে পারে।
গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়া হয়। এর পাঁচ দিন পর মারা যান তিনি। এ হত্যা মামলার রায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বিচারিক আদালত। নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত ২৭ মার্চ তার মা শিরিন আক্তার সোনাগাজী থানায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ সময় নুসরাতের বক্তব্যের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ ও পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে।
গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা করেন আইনজীবী সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এ বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপর ২৭ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ ঘটনায় মোয়াজ্জেমের সম্পৃক্ততা রয়েছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। পরে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরই মধ্যে তাকে বরখাস্ত করে পুলিশ বিভাগ।
গত ১৭ জুলাই ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সামশ জগলুল হোসেন অভিযোগ গঠন করে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলার বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে এ মামলায় আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৩০ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হবে এবং এরপরই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসবে। আমরা আশা করছি, নভেম্বরের মধ্যেই এই মামলার রায় হয়ে যাবে।’
রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী জানান, মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তিনটি ধারায় মামলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে একটি ধারায় সর্বোচ্চ সাত বছর এবং অন্য দুটি ধারায় যথাক্রমে পাঁচ বছর ও তিন বছর করে সর্বমোট ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে মোয়াজ্জেমকে নির্দোষ দাবি করে তার আইনজীবী ফারুক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই ভিডিওটি তার মোবাইল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হয়নি তা ফরেনসিক প্রতিবেদনেই এসেছে। তাই তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন বলে আশা করি।’
এদিকে নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর স্বজন ও এ মামলার বাদীর প্রত্যাশা, হত্যাকারীদের যেমন দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয়েছে মোয়াজ্জেমের ক্ষেত্রেও তা হবে। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার বাদী ব্যারিস্টার সুমন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই মামলায় মোয়াজ্জেমের সাজা হলে নুসরাতের আত্মা শান্তি পাবে।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এ মামলায় এর আগে বিচারিক আদালতে জামিনের আবেদন একাধিকবার নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন মোয়াজ্জেম। তবে তার আবেদনে সাড়া দেয়নি হাইকোর্ট।