ফেনীর আদালতের এজলাসে আসামিরা নুসরাতের পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নুসরাতের বাবা এ কে এম মুসা। দেশব্যাপী আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ফেনীর সোনাগাজীর বাড়িতে বসে দেশ রূপান্তরের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এ কে এম মুসা।
তিনি বলেন, ‘আসামিরা রায় শোনার পর আদালতের এজলাস থেকে যেভাবে আমাদের পরিবারকে নিয়ে হুমকিধমকি দিয়েছে, এতে আমাদের নিরাপত্তার হুমকি আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে আগের থেকে। আমার বৃদ্ধ বাবা এবং নুসরাতের দুই ভাই ও মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে এখন আমি চিন্তিত।’
আসামিরা খুবই আপত্তিকর ভাষায় কথাবার্তা বলেছে জানিয়ে নুসরাতের বাবা বলেন, ‘তাদের এসব কথাবার্তা শুনে আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ঘটনার শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আমরা যথেষ্ট নিরাপত্তা পেয়েছি। এখন আমরা চাচ্ছি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হোক। কারণ তারা যেভাবে হুমকি দিয়েছে, তাতে আমরা ভয়ে আছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি সদস্যরা নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে। কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা প্রস্তুত আছি।’ আদালতে
মামলার বাদী নুসরাতে ভাই নোমানকে হুমকি : এদিকে গতকাল রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে নুসরাত হত্যা মামলার বাদী তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে হুমকি দিয়েছে আসামি ও তার স্বজনরা। সকালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদের আদালতে উপস্থিত হলে সেখানে আসামিরা তাকে লক্ষ্য করে তেড়ে আসে। এ সময় তাকে গালমন্দ করে হুমকি দেয় তারা।
পরে মাহমুদুল হাসান নোমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘নানাভাবে আসামিপক্ষের লোকজন আমাকে ও আমার পরিবারের লোকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আজও আদালতে প্রকাশ্যে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নুসরাতের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নুসরাতের ওপর নৃশংস ঘটনার পর থেকেই তাদের বাড়িতে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। প্রয়োজনে এটি আরও বৃদ্ধি করা হবে।’