আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায় গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এমনকি অনেক প্রভাবশালী গণমাধ্যমের অনলাইন ভার্সন এটিকে প্রধান সংবাদের তালিকায়ও স্থান দিয়েছে। আবার অনেকে এটিকে অন্যতম প্রধান শিরোনামে রেখেছে। প্রায় সব প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ১৬ জনের ফাঁসি নিয়ে। প্রতিবেদনে নুসরাতকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে
সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রধান শিরোনামে লিখেছে, ‘নুসরাত জাহান রাফি : ডেথ পেনাল্টি ফর ১৬ হু সেট স্টুডেন্ট অন ফায়ার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে এ ধরনের মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যেখানে কয়েক বছর লেগে যায়, সেখানে নুসরাতের মামলা দ্রæততম সময়ে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর অন্যতম।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম ছিল নুসরাত। ‘বাংলাদেশ সেনটেন্সেস ১৬ টু ডেথ ওভার নুসরাত জাহান রাফি মার্ডার’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নুসরাত হত্যার পর জোরালো বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রæততম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স তার শিরোনামে লিখেছে, ‘বাংলাদেশ সেনটেন্সেস ১৬ টু ডেথ ফর কিলিং টিনেজার এন হেরাজমেন্ট কেস’ তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে নুসরাতের সহপাঠী ও স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কয়েকজন মিলে নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ২১৭ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যেটা ২০১০ সালের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চ।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার ঘটনায় ‘১৬ সেনটেন্সেস টু ডেথ ফর বার্নিং অ্যালাইভ বাংলাদেশ টিন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির শিরোনাম ছিল, ‘১৬ সেনটেন্সেস টু ডেথ ইন বাংলাদেশ ফর বার্নিং ১৯-ইয়ার্স ওল্ড ওমেন অ্যালাইভ’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাত মাস আগে ঘটা নারকীয় হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দিল বাংলাদেশ! তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের শিরোনামও করা হয়েছে এনডিটিভির মতোই। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নুসরাত হত্যার ঘটনা তার গ্রাম থেকে সারা দেশ, অতঃপর বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দেয়।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুসরাত হত্যার পর নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে বেশকিছু বিক্ষোভ সংঘটিত হয়।