সরকারি পদনাম বা পদবি সিনিয়র সচিব, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব ও সহকারী সচিব অধীনস্থ দপ্তর কিংবা বেসরকারি সংস্থায় ব্যবহার করা যাবে না। এ নির্দেশনা দিয়ে গত বুধবার পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি অধিশাখার যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম গতকাল
বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের দেওয়া পদবি ব্যবহার নিয়ে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা চলছে। এই বিশৃঙ্খলা দূর করার জন্য পদনাম ও পদবিসমূহের বিধিবহিভর্‚ত ব্যবহার সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সিনিয়র সচিব বা সচিব হচ্ছে কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রশাসনিক সর্বোচ্চ পদ। কিন্তু অনেক অধীনস্থ সরকারি দপ্তরেও সচিব পদ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডবিøউটিএ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), শিপিং করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন সংস্থা বা সংগঠনে সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব এবং সহকারী সচিব পদনাম রয়েছে। এই কর্মকর্তারা কেউই ক্যাডার কর্মকর্তা নন। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। রুলস অব বিজনেস, সচিবালয় নির্দেশমালা এবং অন্যান্য বিধি দ্বারা সরকারের বিভিন্ন পদনাম ও পদবি নির্ধারণ করা হয়। সরকারের উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালায়ও এসব পদের কথা উল্লেখ রয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়, বিধিবহিভর্‚তভাবে বা আংশিক পরিবর্তন করে সরকারি পদনামের ব্যবহার নৈতিকতা-পরিপন্থী এবং দণ্ডবিধি-১৮৬০ ও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অবস্থায় পরিপত্রে তিনটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধস্তন অফিসের পদনাম ও পদবি সৃষ্টির ক্ষেত্রে সরকারি পদনাম ও পদবি সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব ও সিনিয়র সচিব ব্যবহার করা যাবে না। সাংগঠনিক কাঠামোতে বিদ্যমান ত্রটি বা বিভ্রান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সরকারের মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, সংযুক্ত দপ্তর ও অধস্তন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ সাংগঠনিক কাঠামোতে অনুমোদিত পদনাম ও পদবি পূর্ণাঙ্গ ও সঠিকভাবে তাদের দাপ্তরিক সিলমোহর, নেমকার্ড, নেমপ্লেট, নথি এবং ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে হবে। রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রক্ষিত কর্মকর্তাদের তালিকা অনুসরণ করা যেতে পারে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।