অন্তঃকোন্দল ও হামলা-মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা ঝিমিয়ে পড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে সব উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে পুরনো কমিটি। এদিকে কমিটিতে স্থান পেতে নানাভাবে তদবির করে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা।
আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে এসব কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নবগঠিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি, সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব কমিটি গঠন করতে পারব।’
দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জেলা কমিটির আওতাধীন সাতটি উপজেলা, একটি থানা ও পাঁচটি পৌরসভা কমিটি রয়েছে। সব উপজেলা ও পৌরসভায় নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে দ্বিধাবিভক্ত। জেলা কমিটির
সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে নেতাকর্মীদের এ বিভক্তির কারণে অধিকাংশ উপজেলা ও পৌরসভায় ছিল দুটি করে কমিটি। একদিকে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের রক্তচক্ষুর ভয়, অন্যদিকে মামলা ও পুলিশ-ভীতির কারণে অর্ধযুগের বেশি সময় ধরে অনেকটা স্থবির ছিল এসব জায়গায় বিএনপির দলীয় কার্যক্রম। সম্প্রতি গঠিত জেলা কমিটির নতুন আহ্বায়ক কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যেই গঠন করা হচ্ছে উপজেলা, থানা ও পৌরসভার নতুন আহ্বায়ক কমিটি। প্রাথমিকভাবে উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে আহŸায়ক কমিটির সদস্যসংখ্যা ৩১ রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে নিষ্ক্রিয় থাকলেও নতুন কমিটি গঠনের খবরে গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতারা। তাদের মধ্যে পদপ্রত্যাশী অনেক নেতা কমিটিতে স্থান পাওয়ার জন্য নানাভাবে যোগাযোগ করছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একাধিক নেতা জানান, উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি গঠন নিয়ে যাতে নতুন করে কোনো গ্রæপিংয়ের সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এগোচ্ছে জেলা কমিটি। এ জন্য জেলা আহŸায়ক কমিটিতে বিভিন্ন উপজেলার যেসব সদস্য রয়েছেন, তাদের নিজেদের বসে নিজ নিজ উপজেলা ও পৌরসভা আহŸায়ক কমিটিতে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা যায় তা চ‚ড়ান্ত করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা আহ্বান কমিটির সদস্য ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলাম হোসাইনী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অতীতের সব ভুল-বোঝাবুঝি দূর করে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কমিটি গঠন এবং এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বর্তমান জেলা আহŸায়ক কমিটি কাজ করছে। উপজেলা ও পৌরসভার আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। এরপর থানা, উপজেলা ও জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে।’
প্রায় আট বছর পর ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহŸায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে কেন্দ্র থেকে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট আহŸায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু সুফিয়ানকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে সদস্য সচিব করা হয়েছে বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপি সভাপতি মোস্তাক আহমেদ খানকে। তবে কমিটিতে স্থান পাননি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল। এ নিয়ে জুয়েলের অনুসারীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা থাকলেও কেন্দ্রঘোষিত আহয়ক কমিটি সম্পর্কে মাঠে এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া শোনা যায়নি।