দু-এক দিনের মধ্যেই ১৪ দলের চিঠির জবাব দেবেন মেনন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে ১৪ দলের দেওয়া চিঠির জবাব দেবেন মেনন। এ বিষয়ে দু-তিন দিনের মধ্যেই তিনি পার্টির নেতাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন কীভাবে চিঠির উত্তর দেওয়া যায়। এ ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার রাশেদ খান মেনন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে ওইদিন (গত শনিবার) নির্বাচন নিয়ে আমি আসলে কী বলতে চেয়েছি, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আমি জবাব দেব।

কবে নাগাদ চিঠির উত্তর দিতে পারেন জানতে চাইলে মেনন বলেন, আমাদের কংগ্রেস সামনে। এ নিয়ে ব্যস্ততা আছে। তারপরও দু-এক দিনের মধ্যেই আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব। জবাব তৈরি করব।

এর আগে গতকাল নারায়ণগঞ্জে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলন শেষে গণমাধ্যমকে মেনন বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি এখনো ১৪ দলে আছে বলেই চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং সেই চিঠির জবাব দেওয়া হবে।

চিঠির বিষয়ে মেনন বলেন, ১৪ দলের সমন্বয়কের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমার বক্তব্যের ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে আমি তার সন্তোষজনক জবাব দেব। অবশ্য এর আগেই আমি বিবৃতি দিয়ে সব বলেছি। কোনো কথাই গোপন করে চলিনি। তারপরও যেহেতু ১৪ দল চিঠি দিয়েছে, সেটার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে সেটি পার্টির নেতাদের সঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনা করে দেওয়া হবে।

গত শনিবার বরিশালে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে মেনন নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য দেন সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে ১৪ দলের দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠির কারণ উল্লেখ করে ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া বলেন, একাদশ নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ১৪ দলের বক্তব্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এ কারণে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

গত শনিবার বরিশালে অশ্বিনী কুমার টাউন হলে আয়োজিত ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলা কমিটির সম্মেলনে রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি ও প্রধানমন্ত্রীসহ যারা নির্বাচিত হয়েছি আমাদের দেশের কোনো জনগণ ভোট দেয়নি। কারণ ভোটাররা কেউ ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেনি।

মেননের এ বক্তব্যকে ঘিরে বেশ বিব্রত পরিস্থিতির মুখে পড়ে ১৪ দল। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন মেননও। আওয়ামী লীগ নেতারা মেননকে উদ্দেশ্য করে নানা ধরনের তির্যক বক্তব্য রাখেন। মেননের এই বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মন্ত্রিত্ব পেলে কি মেনন নির্বাচন নিয়ে ‘বিরূপ’ মন্তব্য করতেন? অন্যদিকে বিএনপির মুখপাত্র দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নিশি রাতের ভোট নিয়ে মহাসত্যটা বলে দিয়েছেন মেনন। ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদও একদিন এই সত্য স্বীকার করবেন। গতকালও ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাশেদ খান মেনন এখন উল্টো সুরে কথা বলছেন। তিনি ‘অলরেডি ইউটার্ন’ নিয়ে ফেলেছেন।

চিঠির ব্যাপারে গতকাল ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ দলের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে, তারা আমাকে বলেছেন, রাশেদ খান মেননের বিষয়ে তারা আলোচনা করেছেন, আরও আলাপ-আলোচনা করে তার বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও বলেন, তবে আমি এটুকু বলতে পারি একজন নেতার জন্য ১৪ দলের ঐক্যে কোনো ভাঙন আসবে না। একজন ব্যক্তির জন্য একটা জোটের অপমৃত্যু হতে পারে না।

এমন অবস্থায় মেনন পার্টির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বক্তব্যের ব্যাপারে তার ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলার সম্মেলনে তার দেওয়া যে বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে সেটি ছিল খ-িত বক্তব্য। তার পুরো বক্তব্য প্রচার না করে আংশিক প্রচার করায় বিভ্রান্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বক্তব্যের সবগুলো যদি উঠে আসত তাহলে এই প্রশ্নই উঠত না।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দল আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ১৪ দলের সমন্বয়ক এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৪ দল কোনো ব্যক্তির নয়, এটা জোটবদ্ধ সংগঠন। তবে জোটের বৈঠকে রাশেদ খান মেননের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে।

পরে বৃহস্পতিবার ১৪ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে বৈঠকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা উপস্থিত থাকলেও সভাপতি রাশেদ খান মেনন উপস্থিত ছিলেন না।