ছাত্রদলের পুরো কমিটি শিগগির তালিকা তারেকের কাছে

কাউন্সিলের পর এক মাস পার হলেও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেননি সংগঠনটির সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। এদিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করার জন্য খোকন ও শ্যামলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যে কোনো সময় তারা গ্রেপ্তার হলে সংগঠনের নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ অবস্থায় অতিদ্রুত ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানান ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী। তবে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল দেশ রূপান্তরকে বলেন, অতিদ্রুতই ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ঢাবির যে কমিটি রয়েছে তা বিলুপ্ত করে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। ছাত্রদলের কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী  হয়েছিলেন আশরাফুল আলম ফকির লিংকন। পরে তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তার প্রত্যাশা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে সম্মানজনক আসনে জায়গা করে দেবে দলের হাইকমান্ড। লিংকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবার ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ছাত্রদল সভাপতি খোকন ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল। তার জানা মতে, ইতিমধ্যে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া হয়েছে। শিগগিরই তা চূড়ান্ত করা হবে। আপাতত ৫১ কিংবা ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।

ছাত্রদলের কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন এমন এক ছাত্রদল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আংশিক একটি তালিকা লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তালিকায় থাকা নেতাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। খোঁজখবর নেওয়া শেষ হলেই লন্ডন থেকে তালিকা পাঠানো হবে। পরে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য সংখ্যা আগের মতো ঢাউস হবে না। এবার সদস্য সংখ্যা হবে ১৭১। আর জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে ১৫১।

ছাত্রদল নেতাকর্মীরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ১২ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি, বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা ও কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি। পুলিশের অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করায় পল্টন থানায় ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের ফেইসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার কথা জানান ছাত্রদল সভাপতি খোকন ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল। সংবাদ সম্মেলন শেষে ছাত্রদল নেতারা মধুর ক্যান্টিনের দিকে রওনা দিলে টিএসসিতেই তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে  গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। এ সময় তারা তাড়া খেয়ে পালিয়ে যান। এর পর থেকে তারা আর ক্যাম্পাসে যাচ্ছেন না। এখন বিলুপ্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত ক্যাম্পাসে যাচ্ছেন।

তারা বলেন, আপাতত যৌথ নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে যাচ্ছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার হলে একইভাবে ক্যাম্পাসে যেতে হবে। তবে অতি দ্রুত কমিটি হলে নেতৃত্বের একটা চেইন অব কমান্ড থাকত।

প্রসঙ্গত, গত মাসের ১৯ তারিখ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসায় ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল সম্পন্ন হয়। কাউন্সিলে ৯ জন সভাপতি এবং ১৯ জন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর মধ্য থেকে দুই পদে দুজনকে বেছে নিতে ভোট দেন ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক শাখার ৫৬৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৫৩৩ জন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ১৮৬ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন খোকন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ পান ১৭৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ১৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন শ্যামল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকিরুল ইসলাম পান ৭৪ ভোট।