হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানদের উপাসনালয় পাহারা দেবে হেফাজত

দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের উপাসনালয় পাহারা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। ভোলার বোরহানউদ্দিনে ‘ধর্ম অবমাননার’ প্রতিবাদ ও গুলিতে চারজন নিহতের ঘটনার বিচার দাবিতে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর নারায়ণগঞ্জ নগরীর ডিআইটি চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে এ ঘোষণা দেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত এ সমাবেশে হেফাজতের নায়েবে আমির নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘ভোলার ঘটনার সঠিক বিচার না হলে আবারও রাজপথে নামতে আমরা বাধ্য হব। এটি নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলা খেলতে দেওয়া হবে না। আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলের উপাসনালয় পাহারা দেব। কারণ আমরা সকলের ধর্মকে সম্মান করি। এটিই আমাদের ধর্মের শিক্ষা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তার রাসুলকে নিয়ে কটূক্তি করে তাদের ফাঁসির বিধান রেখে আইন পাস করতে হবে। আর সেটি না পারলে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।’

দুপুর সোয়া ২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলা এ সমাবেশে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অসংখ্য মানুষ সমবেত হয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা জোনায়েদ আল হাবিব বলেন, ‘আমাদের ভাইদের যারা পাখির মতো গুলি করে মেরেছে তাদেরও গ্রেপ্তার করতে হবে, শাস্তি দিতে হবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের জেলা আমির ও ডিআইটি মসজিদের খতিব আবদুল আউয়াল। তিনি বলেন, ‘আমাদের হেয় করার জন্য অনেকেই বিভিন্ন উপাসনালয়ে হামলা করতে পারে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ষড়যন্ত্রকারী সফল না হয়। আর এ ধরনের ঘটনা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।’

হেফাজতের জেলা সমন্বয়ক ফেরদাউসুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম, আবদুল কাদির, আজিজুল হক, জাকির হোসাইন কাশেমী, মনির হোসাইন কাশেমী, সিরাজুল মামুন, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, ওমর ফারুক, শাব্বির হোসেন প্রমুখ।