কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। তাকে দেখতে যেতে চান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে গত ২১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলেও গতকাল শনিবার পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাননি তারা। তবে সরকার খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদেরকে সাক্ষাতের অনুমতি দেবেন বলে গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরের কাছে আশা প্রকাশ করেছেন ফ্রন্ট নেতারা। এদিকে বিএনপির এক যুগ্ম মহাসচিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা আইজি প্রিজন্সের অনুমতি পেলেও
খালেদা জিয়ার অনুমতি পাবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার পর দলের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহŸায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি সে অনুরোধ রক্ষা করেননি। তাছাড়া বিএনপির বেশিরভাগ নেতা ড. কামালের ওপর অসন্তুষ্ট।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ফ্রন্টের নেতাদের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে তাতে ৯ জনের নাম রয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেবেন ড. কামাল হোসেন। সঙ্গে থাকবেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নাগরিক ঐক্যের আহবয়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, খণ্ডিত বিকল্পধারা বাংলাদেশের আহবয়ক অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া ও জেএসডি সহসভাপতি তানিয়া রব।
জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের দিনক্ষণ জানায়নি কারা কর্তৃপক্ষ। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সাক্ষাতের অনুমতি পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
আবেদন করার পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতির বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই তো আর অনুমতি দেয় না কারা কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া অফিশিয়াল প্রক্রিয়া আছে। সব শেষ করে সাক্ষাতের সময় দিতে কিছুটা সময় লাগছে হয়তো। তবে আশা করছি শিগগিরই আইজি প্রিজন্স সাক্ষাতের দিনক্ষণ জানাবেন।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা তাদের নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার আবেদন করলেও তাদেরকে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত রোজার ঈদ ও কোরবানির ঈদে বিএনপি নেতারা অনুমতি পাননি। অনুমতি পেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর এটাই হবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমাদের প্রথম সাক্ষাৎ।’
সর্বশেষ গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় ও আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এ ছাড়া গত ১ অক্টোবর মঙ্গলবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাংসদ হারুনুর রশীদ, উকিল আব্দুস সাত্তার ও আমিনুল ইসলাম এবং পরের দিন বুধবার ২ অক্টোবর গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বিএসএমএমইউতে সাক্ষাৎ করেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে।
ফ্রন্ট নেতারা জানান, গত ২১ অক্টোবর জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিদলে রব ছাড়াও ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারা বাংলাদেশের আহŸায়ক অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, জেএসডির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ও ফ্রন্টের দপ্তরপ্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।
ফ্রন্টের দপ্তরপ্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এক দিনে ফ্রন্টের সবাইকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হবে না। কারণ হাসপাতালের কেবিনে চারজনের বেশি গেলে বসার জায়গা থাকে না। তাই দুই ভাগে ভাগ হয়ে যেতে হবে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আশা করছি আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সাক্ষাতের অনুমতি পাওয়া যাবে। আইনগতভাবে আইজি প্রিজন্সের অনুমতি দেওয়ার কথা থাকলেও সরকারের সবুজ সংকেত মুখ্য। যেহেতু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে দিয়েছেন সেহেতু অনুমতি পাওয়া যাবে। সে হিসেবে সোমবার অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’