দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে নুর ইসলাম। গতকাল শনিবার রাতে নুর বলেন, ডিসি তার অফিসে ডেকেছিলেন। চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে আমি চাকরি করব না বলেছি।
আগে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে সদর উপজেলা ভ‚মি কমিশনারের (এসি-ল্যান্ড) গাড়িচালক ছিলেন নুর, তবে মাদকগ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাকে দেওয়া সরকারি বাসাও ফিরিয়ে নেওয়া হয়। নুর ইসলামের বাড়ি সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের যোগীবাড়ি গ্রামে।
নুর ইসলামের চাকরিচ্যুতি ও বাস্তুচ্যুতির জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমাইল হোসেন স্থানীয় সাংসদ বরাবর একটি চিঠি লিখেছিলেন বলে জানা যায়। এজন্য জেলা প্রশাসনের বেশ কয়েক কর্মকর্তাকে দায়ী করে গত ২২ অক্টোবর ওই চিঠি লেখা হয়। তবে চিঠিটি লেখার দুই দিনের মাথায় জেলার এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইসমাইল হোসেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করার এক পর্যায়ে সদরের ভ‚মি কমিশনার মো. আরিফুল ইসলাম নুর ইসলামকে চাকরিচ্যুত ও বাস্তুচ্যুত করেন। এসব কারণ উল্লেখ করে চিঠিতে লেখা হয়, মৃত্যুর পর যেন ওই মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া না হয়।
গত বৃহস্পতিবার ডিসি মাহমুদুল আলম নুর ইসলামকে তার কার্যালয়ে ডেকে চাকরি ও সরকারি বাসায় থাকার পুনর্ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। পরদিন শুক্রবার ডিসি সদর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লোকমান হাকিমকে নিয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন। তবে এক দিনের মাথায় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন নুর ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। আমি বলেছি চাকরি করব না। আমার বাবা হুইপ সাহেব (সাংসদ ইকবালুর রহিম) বরাবর একটি দরখাস্ত লিখে গেছেন। আমি সেই দরখাস্ত পোস্ট অফিসে পাঠিয়ে দিয়ে আসার পরই শুনতে পাই আমার বাবা মারা গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘ডিসি স্যার আমাকে অফিসে ডেকেছিলেন। আমাকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু আমি চাকরি করব না বলেছি।’
এ বিষয়ে ডিসি মাহমুদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা নুর ইসলামকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে চেষ্টা করেছি। তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে আমরা কী করব। প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। নুরের চাকরিচ্যুতির ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে।’