শান্তিতে নোবেলজয়ী ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। দেশটির ওরোমিয়া রাজ্যে আবিবিরোধী বিক্ষোভ জাতিগত সহিংসতায় রূপ নিলে অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছে বলে রাজ্য কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
আঞ্চলিক পুলিশপ্রধান কেফিয়ালিউ তেফেরা বলেন, ওরোমিয়াতে নিহতের সংখ্যা ৬৭ জন। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।
আবিবিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারই একসময়কার সহযোগী জাওয়ার মোহাম্মদ নামের এক অধিকারকর্মী। জাওয়ার অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা বাহিনী তার বিরুদ্ধে হামলার ষড়যন্ত্র করছে। জাওয়ারের এমন অভিযোগের পরই গত বুধবার ইথিওপিয়ার রাজধানী
আদ্দিস আবাবা এবং ওরোমিয়া অঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জাওয়ার মোহাম্মদ অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘২০১৯ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ স্বৈরাচারের মতো আচরণ করছেন।’ তিনি আগামী নির্বাচনে আবি আহমেদের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আঞ্চলিক পুলিশপ্রধান জানিয়েছেন, ওরোমিয়া অঞ্চলের সহিংসতা থেমে গেছে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক ফিসেহা টেকল শুক্রবার জানিয়েছেন, এখনো হামলার খবর পাচ্ছেন তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সহিংসতাপ্রবণ সাতটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা মোতায়েন করা হবে।
গত বছর যে বিক্ষোভের জের ধরে ক্ষমতায় আসেন আবি আহমেদ তাতে সমর্থন দিয়েছিলেন জাওয়ার। কিন্তু সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নীতির সমালোচকে পরিণত হয়েছেন তিনি।
ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করায় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার শান্তিতে নোবেল জেতেন আবি আহমেদ। সংঘাত নিরসনে এখনো ইথিওপিয়ায় অনেক কাজ বাকি। তবে আবি আহমেদের অনেক সংস্কারে দেশটির জনগণ নতুন করে আশার আলো দেখছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিন তিনি জরুরি অবস্থা তুলে নিয়ে হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কাজ করেন।