জ্বালানি বিভাগে ৩ বছরে ৪৫১ জনের বিদেশ সফর

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ১০টি সংস্থা থেকে তিন বছরে ৪৫১ জন বিদেশ সফর করেছেন। বিভাগের চলমান প্রকল্প থেকে ২০১৬-১৯ পর্যন্ত তারা এই সফর করেন। কর্মকর্তাদের এমন বিদেশ সফরে আপত্তি তুলেছে মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি। তারা অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ঠেকানোর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে।

গতকাল রবিবার সংসদ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির নবম বৈঠকে উপস্থিত একজন এ তথ্য জানান। কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য মো. আবু জাহির, মো. আছলাম হোসেন সওদাগর, মোছা. খালেদা খানম ও বেগম নার্গিস রহমান।

বৈঠক শেষে মো. শহীদুজ্জামান সরকার সাংবাদিকদের জানান, এ বিভাগে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের (প্রশিক্ষণ/কর্মশালা/সেমিনার ইত্যাদি) বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে এ সফরের প্রভাব-সংক্রান্ত আলোচনা করা হয়। এ বিভাগের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত এবং বিদেশ সফরে যাতে সরকারের অর্থের অপচয় না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বৈঠকে বিদেশ সফরের পর একটি প্রতিবেদন নিজ নিজ সংস্থার কাছে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

কমিটির গত বৈঠকে সংস্থার সংখ্যা গোপন করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের চলমান প্রকল্প থেকে গত তিন বছরে ২ হাজার ৯৬১ জন কর্মকর্তা বিদেশ সফর করেছেন। তখন সংস্থার সংখ্যা কম দেখানো হয়েছিল। এবারের বৈঠকে সবগুলো দেখানো হয়েছে। একই কমিটিকে দুই ধরনের তথ্য দেওয়ায় কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করে সতর্ক করে দেয়।

বৈঠকে ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা পূরণে আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে শুধু ভারত থেকে নয়, প্রয়োজনে মিয়ানমার থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস আমদানি করা যায় কি না, তার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বৈঠকে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়।