পূর্ব আফ্রিকার দেশ সিশেলসে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠাবে সরকার। সিশেলসের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি প্রত্যেক শ্রমিক ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার বেতন পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ।
গতকাল রবিবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ-সিশেলস শ্রম সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ২১ আগস্ট সিশেলসের রাজধানী ভিক্টোরিয়ায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটিতে বাংলাদেশি জনশক্তি প্রেরণ সম্পর্কিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ ও সিশেলসের সরকারের মধ্যে জনশক্তি প্রেরণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ওপর সেদেশের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রত্যাহার হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা খুব কম খরচে সিশেলসে যেতে পারবেন। সিশেলসে শুধু সরকারিভাবে কর্মী যেতে পারবেন। তবে কী পরিমাণ শ্রমিক যাবেন সেটা নির্ধারণ হবে তাদের চাহিদার ওপর। সেজন্যই যারা সিশেলসে যেতে ইচ্ছুক তারা কোনো এজেন্টকে টাকা দেবেন না।
তিনি বলেন, সিশেলসে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। ওই দেশে নির্মাণশিল্পে অধিকাংশ কর্মী কাজ করে থাকেন। হোটেল, টু¨রিজম, স্বাস্থ্যসেবা, হাউজকিপিং, কুক, ভিলা অ্যাটেনডেন্ট, কৃষি খামার, পোলট্রি খামার খাতেও বাংলাদেশি কর্মীরা কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া ফিশিং ও ফিশ ইন্ডাস্ট্রিজ, আর্থিক পªতিষ্ঠানে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য সিশেলসের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে এবং উভয় দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও অধিকারসমূহ সুরক্ষিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সচিব সেলিম রেজা বলেন, সিশেলসে বাংলাদেশি জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে গত ২১ অক্টোবর আমাদের সঙ্গে তাদের একটি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মী মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার বেতন পাবেন। তারা স্বল্প ব্যয়ে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায়। তবে কতজন কর্মী নেবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। তাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী দেওয়া হবে।