বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে জেলে নিয়ে গেছে বহুবার। তৈরি আছি সব সময় জেলে যাওয়ার জন্য, যেকোনো সময়, যেকোনো মুহূর্তে। কিন্তু অধিকার আদায় না করে কোনোদিন পরাজয় স্বীকার করব না। গতকাল সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে জেলা কৃষক দলের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
কারাবন্দি খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য অন্যায়, বেআইনি, অমানবিকভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।’
নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আবারও নির্বাচন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে না। এটাও প্রমাণ হয়েছে।’
দেশে সুশাসন নেই অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজ দেশের মানুষ কোথাও বিচার পায় না, সুশাসন নেই। কোনো এলাকায় ধনী লোক থাকলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে এসে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়। তাই সারা দেশের মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কার কাছে যাবে, যেখানে সরকার ভক্ষক, তার এজেন্সিগুলো ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে।’
সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশকে ক্যাসিনো রাষ্ট্র বানাতে চায়। যে দেশে কৃষকের উন্নয়ন নেই, তারা পণ্যের দাম পায় না, সেখানে সরকার কৃত্রিমভাবে উন্নয়ন দেখিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়ন আত্মহননকারী উন্নয়ন। যে উন্নয়ন পরনির্ভরশীল করে দেবে, যে উন্নয়ন ঋণগ্রস্ত করবে সে উন্নয়ন, উন্নয়ন হতে পারে না। এ সরকার এত সুন্দর করে কথা বলছে তাতে হাসি পায়। যারা জণগণের ভোটকে ভয় পায়, যারা ভোট দিতে দেয় না তারা জোর করে ক্ষমতা ধরে রেখে এমন করে কথা বলে।’
তিনি বলেন, ‘এ সরকার নতজানু পুতুল সরকার। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বন্ধুরাষ্ট্র ভারত ও চীন এখনো নীরব। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কোনোদিন জাতিকে বিশ্বদরবারে উঁচু করে নিয়ে যেতে পারবে না।’
সরকারের শুদ্ধি অভিযানের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ সরকার শুদ্ধ নয় বলেই শুদ্ধি অভিযান করছে। এ সরকারের সারা গায়ে কাদা লেগে গেছে। কিন্তু এই শুদ্ধি চুনোপুঁটিদের নিয়ে করা হচ্ছে। তাদের নিয়ে কখনো শুদ্ধি হতে পারে না।’
জেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে এতে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন প্রমুখ।
এর আগে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে সম্মেলনস্থলে আসেন। পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়। ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষক দলের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৭ সালে।