ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ের অনুলিপি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি) সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এসব নথি পৌঁছায় বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান।
তিনি জানান, লাল কাপড়ে মোড়ানো ডেথ রেফারেন্সের নথি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিসে এসে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে তা গ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, নুসরাত হত্যা মামলায় পেপারবুক প্রস্তুত, ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন তিনি।
ফৌজদারি বিধান অনুযায়ী বিচারিক আদালতের রায়ে কোনো আসামির মৃতৃ¨দণ্ডপ্রাপ্ত হলে রায় কার্যকর করতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এ বিধান অনুসরণ করে বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ পান।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘নুসরাত হত্যা মামলার আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসেছে। এখন নিয়ম অনুসারে এসব নথি আদালতের কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করে দেখবেন। দ্রুত যেন এ মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়, তাড়াতাড়ি যাতে শুনানি হয়, যেহেতু এ মামলার ব্যাপারে দেশবাসীর আবেগ জড়িত এবং বিচার পাওয়ার একটা আকাক্ষা দেশবাসীর রয়েছে, তাই ত্বরিত গতিতে শুনানির যত রকম পদক্ষেপ নেওয়ার তা নেব।’
সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (পরে বরখাস্ত) সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা হওয়ার পর ওই অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের রোষানলে পড়েন নুসরাত। গত ৬ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন। ওই দিন বিকেলে নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এরপর পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল হার মানেন নুসরাত।
এ ঘটনায় সিরাজসহ ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। গত ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যায় ১৬ আসামির সবাইকে প্রাণদণ্ড দেয়। পাশাপাশি আসামিদের এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা (৫৭), স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম (৫০), উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনসহ (৫৫), নূর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।