এক লাখ রোহিঙ্গার পুনর্বাসনে প্রস্তুত ভাসানচর

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের মধ্যে এক লাখের পুনর্বাসনের জন্য নোয়াখালীর ভাসানচর প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠকের পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কার্যপত্র থেকে জানা যায়, ভাসানচরে রোহিঙ্গা নাগরিকদের কেনাকাটার জন্য থাকছে সুপারশপ। দুটি হাসপাতাল, চারটি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ রয়েছে দুটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হেলিপ্যাড।

সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচর নামক স্থানে ১ লাখ বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।  প্রকল্পটির জন্য জিওবি খাত থেকে বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার টাকার মধ্যে ২ হাজার ২৬৫ কোটি ৯০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বাকি ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরুরি তহবিল হিসেবে রাখা রয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে।

সভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের লে. জেনারেল মো. সফিকুর রহমান, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে ২০১১ সালেও দলে দলে রোহিঙ্গারা তাদের দেশ ছেড়ে আসে। কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে থাকা ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৬ রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক ডেটা রয়েছে সরকারের কাছে।