[রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে বুধবার বেলুনে গ্যাস ভরার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৬ শিশু নিহত হয়েছে। এ বিস্ফোরণে আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শৈশবের আনন্দ কুড়াতে গিয়ে এমন করুণ পরিণতি। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি লেখা পোস্ট করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক দুলাল মাহমুদ। তার লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো।]
শৈশবটা আনন্দময় হলেও অর্থ প্রাপ্তিযোগ ছিল না বললেই চলে। এক আনা কিংবা দুই আনা পয়সা ম্যানেজ করতে না পারায় কত ছোট ছোট দীর্ঘশ্বাস হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। স্যাকারিনের সস্তার আইসক্রিম, লাল রঙের হাওয়াই মিঠাই কিংবা লাল-নীল গ্যাস বেলুন নিয়ে ফেরিওয়ালা যখন আসতেন, তখন তাদের পাশে মৌচুষকির মতো ঘুরঘুর করেছি।
কখনো কিনতে পেরে কী যে খুশি হয়েছি। আবার কখনও কিনতে না পেরে মন খারাপ করেছি। কেনার পর পরই গ্যাস বেলুন হাত থেকে ছুটে যাওয়ার কষ্টটা তখন মনে হয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট। কিন্তু সুলভ মূল্যের সেই আইসক্রিম, হাওয়াই মিঠাই খেয়ে কখনো অসুস্থ হয়েছি কিংবা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কখনো দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে পড়ে না।
যদিও পিচ্চি সেই বয়সে দ্বীন-দুনিয়ার খোঁজ-খবর কতটুকুইবা রাখতাম। তারপরও এমন কিছু হলে তার আঁচ তো নিশ্চয়ই পেতাম। মুরব্বিরা অন্তত সাবধান করে দিতেন।
আর এখন ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কিছু কিনে খাওয়ার আগে অনেকবার ভাবতে হয়। বেলুন কিনতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ফুৎকারে ওড়ে যায় প্রাণবায়ু। বিনোদনহীন শৈশবে একটুখানি বিনোদন খরিদ করতে গিয়ে তার মূল্য এভাবে চুকাতে হয়! হায়রে জীবন!