শীত আসছে। শুষ্ক ত্বকে খসখসে অনুভূতি। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে শুকনো ঠোঁট। রাতে শোবার আগে খসখসে হাত-পা। তাই শীতের শুরুতেই টুকিটাকি যত্ন-আত্তি শুরু করুন নিজের, শীতের রুক্ষতা ত্বকে ছাপ ফেলার আগেই। ছোটখাটো যত্নের কথা জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ রাকা ফারহানা
ময়েশ্চারকে ভুলবেন না!
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা, প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানো আর খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখা, প্রাণবন্ত ত্বক পাওয়ার মূলকথা। যদি আপনার ত্বক তেলতেলে খুব, ঘাম হয় তাহলে বিরক্ত লাগবে_ এসব বাহানায় ময়েশ্চারাইজারকে ভুলে থাকবেন না। খুব পাতলা ময়েশ্চারাইজার হলেও নিয়মিত ত্বকে ব্যবহার করা উচিত।
ভ্যাসলিন আর লিপবাম হাতের কাছে থাকুক
ত্বকের শুষ্কতা বিশেষ করে ঠোঁট, বারবার শুকিয়ে গিয়ে বিব্রত করতে থাকবে যখন-তখন। ভ্যাসলিনের কৌটো সব সময় সামনে রাখা চাই। আর সঙ্গে লিপবামটা রাখা চাই বাইরে বের হলেও। গালের চামড়াও মাঝেমাঝে খসখসে লাগতে পারে। তেমন হলে রাতে শোবার আগে গালে হালকা ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুম দিন।
সকালে উঠে অনেকটাই মসৃণ অনুভব করবেন ত্বক। তেমনি পায়ের গোড়ালিতে মোটা করে ভেসলিন লাগিয়ে নিতে পারেন।
ত্বকের যত্নে তেল
ত্বকে তেলের যে প্রয়োজনীয়তা, তা অন্যকিছু পূরণ করতে পারে না। তাই যতই অস্বস্তি হোক, ত্বকের দেখভালে তেলের উপস্থিতি রাখুন। গোসলের আগে হলেও শরীরে জলপাই কিংবা বাদাম তেল মাখুন।
গোসল করে নিলে বাড়তি তেলটা ত্বকের উপরিভাগ থেকে ধুয়ে যাবে। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এই জিনিস ভীষণ উপকারী।
অসুবিধা না থাকলে তেল ব্যবহার করা চলবে গোসলের পরও, তাতে তেল ত্বকে দীর্ঘ সময় থাকবে এবং রুক্ষতার বারোটা বাজাবে সে।হাত-পায়ের যত্ন হাত-পা নিষ্প্রাণ লাগা শুরু করার আগেই আপনি বরং হাত-পায়ের যত্ন নেওয়া শুরু করুন। কেননা, পায়ের চামড়ায় একবার রুক্ষ হয়ে গেলে ঠিক করা ঝামেলার। হাতে খানিক নারকেল তেল ঢেলে নিয়ে তাতে সামান্য চিনি মেশান। এবার সেটা হাত ও পায়ে মালিশ করে নিন পাঁচ মিনিটের মতো সময় নিয়ে। তারপর একটা গামলায় কুসুম গরম পানি নিয়ে তাতে হাত-পা ডুবিয়ে তেল পরিষ্কার করুন। ত্বকের কমনীয়তা টের পাবেন প্রথমেই।
গ্লিসারিন সঙ্গী হোক
গ্লিসারিনের ছোট বোতলটা ছাড়া শীতকাল পার হলে তা খুব সুখকর না-ও হতে পারে। এখন থেকেই ফেসপ্যাকে দুই থেকে তিন ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে নেওয়ার অভ্যাস করুন। পানির কিংবা গোলাপজলে মিশিয়ে পুরো শরীরেই মাঝেমাঝে গ্লিসারিন লাগানো ত্বকের জন্য খুব বেশি ভালো। এসব অভ্যাস আবার শুরু হোক এখন থেকেই।