ঘরের নানা আলো

ঘরেতে নানারকম আলো ব্যবহার করতে হয়। এর মধ্যে একটি হলো ন্যাচারাল লাইট আরেকটি আর্টিফিশিয়াল । আলো ও বাতাস প্রবেশ করতে পারে সেভাবেই বাড়ির ইন্টেরিয়র করা উচিত। যাতে বাড়ির প্রতিটি কোণে প্রতিটি আসবাবপত্রে আলো পড়বে। সেই আলো যেখানে পৌঁছাবে না, সেখানেই কেবল আর্টিফিশিয়াল আলোর ব্যবহার করা হবে। আজকাল খাবার ঘর বা করিডর স্পেসে ঠিকমতো আলো প্রবেশ না করলে আলোকিত করার জন্য নানা রকম বাতির ব্যবহার করা হয়। আলো ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন রাস্টিক ম্যাটেরিয়েল ব্যবহার করে সেই স্থানের দেয়াল ও ছাদের নানা রকম মাত্রা দেওয়া যায়। ফলে সেই জায়গাটির সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ। বাজারে পাওয়া নানারকমের আর্টিফিশিয়াল লাইট, যেমন ডাইরেক্ট লাইট সোর্স. ইনডাইরেক্ট লাইট সোর্স, মিলো লাইট, স্পট লাইট,  ডেকোরেটিভ লাইট

ডাইরেক্ট লাইট :  ঘরে একটি আলোক উৎস থাকে যা সরাসরি ঘরকে আলোকিত করে তাকে বলে ডাইরেক্ট লাইট। এই আলোতে কোনো বস্তু বিশেষভাবে দেখা যায় না। সব কিছুই সাধারণ মানের আলোতে আলোকিত হয়। প্রতিটি বস্তুর ওপর সমান আলো পড়ে। ডাইরেক্ট লাইট সোর্স হিসেবে ব্যবহার হয় টিউব লাইট। বাজারে পাওয়া যায় চার ফিট থেকে দু ফিট বা এক ফিট লম্বা টিউব লাইট। এসব টিউব লাইটের আলো সহনশীল হলেও একমুখী। ফলে বেশ কিছু মধ্য ছায়া অঞ্চল তৈরি হয় ঘরে। এলইডি টিউবও পাওয়া যায় যা সাধারণ টিউব লাইটের চাইতে চারগুণ বেশি আলো দেয় এবং অনেক দিন চলে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী আরেক বাতির নাম এনার্জি সেভার লাইট। এটি টিউব লাইটের ছোট্ট রূপ। দামে তিন থেকে পাঁচশ টাকা। ইনডাইরেক্ট লাইট : যেসব আলোক উৎস এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যেন ঘরে কোনো আলোক উৎস দেখা যাবে না অথচ আলো দেখা যাবে, তখন তাকে বলা হয় ইনডাইরেক্ট লাইট সোর্স। প্রতিটি বস্তু সমান আলোকিত হয়। প্রতিটি ছায়া একই রকম হয় বলে ঘরের মাঝে একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়।  বাড়িতে লিভিং রুম বা ডাইনিং স্পেস-এ ইনডাইরেক্ট লাইটের ব্যবহার বেশি। ঘরের ভেতর যে নকল ছাদ থাকে, তাতে ইনডাইরেক্ট লাইট ব্যবহার করা হয়। এক সময় এই ইনডাইরেক্ট লাইটিংয়ের জন্য টিউব লাইট ব্যবহারের প্রচলন ছিল। বর্তমানে এলইডি স্ট্রিপ ব্যবহার হয়। একটি এডাপ্টর ব্যবহার করে লাইট স্ট্রিপ শুইয়ে দেওয়া হয় ডিজাইন করা সিলিং বা দেয়ালের ক্লাডিং-এ।

মিলো লাইট :  ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট লাইট ব্যবহারের মাধ্যমে অন্যরকম পরিবেশ তৈরি করে যে লাইট, তাই মিলো লাইট । এই লাইটিং সাধারণত অফিস বা রিডিং টেবিলে ব্যবহার করা হয়।

ফোকাস লাইট : কোনো একটি বস্তুকে চোখের সামনে তুলে ধরার জন্য এই লাইট ব্যবহার হয়। একে স্পটলাইটও বলে। ঘর বা প্রতিষ্ঠানের যেকোনো বস্তুর ওপর আলো ফেলে একটি ‘আলোক অঞ্চল’ তৈরি করা যাতে বস্তু বা দেয়াল সবার নজরে আসে। ফোকাস লাইট হিসেবে এলইডি বাল্বের ব্যবহার বেড়েছে। এক্ষেত্রে ট্রেইল ধরে লাইট বসানোর ব্যবহারও দেখা যায় । ঘরের বিভিন্ন আসবাবের ওপর লাইট ব্যবহার করে একে ফুটিয়ে তোলার কাজটিও করা হয় এই স্পটলাইট দিয়েই। প্রতিটি কোণে চলে যায় আলো_ তাতে ছায়ার অংশ কমে যায়। ডেকোরেটিভ লাইট : যখন কোনো আলোক উৎস নিজেই ডেকোরেশন পিস হিসেবে ব্যবহার হয়, তখন তাকে ডেকোরেটিভ লাইট বলে। এসব লাইট নানা ডিজাইনের হয় । ঘরের তিন ধরনের আলো দেখা যায়। ওয়ার্ম হোয়াইট, ডে লাইট , কুল হোয়াইট। বাড়িতে এই রকমের লাইট ব্যবহার হয়। লাইট টেম্পারেচার হিসেব করে কম টেম্পারেচারের লাইটকে বলা হয় ওয়ার্ম লাইট। এটা অনেক হলুদাভ আলো দেয়। এতে যেকোনো দেয়াল হলদে হয়ে ধরা পড়ে চোখে। ধীরে ধীরে টেম্পারেচার বাড়তে থাকলে ডে লাইট তৈরি হয়। আবার টেম্পারেচার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে আলো নীলাভ হয়ে যায়। তখন একে বলা হয় কুল লাইট। এই তিন ধরনের আলো আমরা ব্যবহার করে চলি। যখন আমরা টিউব লাইট ব্যবহার করি, তখন আমরা আসলে কুল লাইট ব্যবহার করি। বাজারে অনেক ওয়ার্ম হোয়াইট টিউব লাইটও পাওয়া যায়। আবার স্পট লাইটের ক্ষেত্রে ওয়ার্ম স্পটই বেশি ব্যবহার হচ্ছে। অফিস বা বাসার কাজের জায়গাগুলোতে ডে লাইট ব্যবহার করা হয় বেশি। রান্নাঘর বা টয়লেটে কুল লাইটের ব্যবহার বেশি হয়। ডায়নিংয়ে ওয়ার্ম লাইট ব্যবহার হয়।