পেঁয়াজের কেজি ১৫০ টাকা ছাড়াল

পেঁয়াজের বাজারের অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। এক দিনের ব্যবধানেই প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম গড়ে ২০ টাকা বেড়ে গতকাল বুধবার বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ টাকায়। এই নিয়ে গত দেড় মাসে কেজিতে অন্তত ১০০ টাকা বাড়ল পণ্যটির দাম। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে রাজধানীতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা দরে। দাম বেড়েছে আমদানি পেঁয়াজেরও। গতকাল খুচরা বাজারে আমদানি পেঁয়াজের কেজি ছিল ১৪০-১৪৫ টাকা। বাণিজ্য সচিবের আশা, আগামী সপ্তাহে তুরস্ক ও মিসরের পেঁয়াজ বাজারে পৌঁছাবে। তখন দাম কমবে। তবে আমদানিকারকরা বলছেন, আরও অন্তত ১৫-২০ দিন সময় লাগবে।

গতকাল বাণিজ্য সচিব জাফরউদ্দিন বলেন, মিসর ও তুরস্ক থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ আসতে আরও সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাজারে ওই দেশ দুটির পেঁয়াজ আসবে। এর আগে সংকট সমাধানের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এই সময় পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্য সচিব আশাপ্রকাশ করলেও আমদানিকারকরা বলছেন ভিন্ন কথা। মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির দায়িত্ব পেয়েছে মেঘনা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ। তারা জানায়, দেশ দুটি থেকে সরাসরি কোনো জাহাজ বাংলাদেশে আসে না। সিঙ্গাপুর বন্দরে ট্রানজিট নেয়। তাই দেশের বন্দরে একটি জাহাজ পৌঁছতে অন্তত ২০ দিন সময় লাগে। সেটাও সম্ভব হবে যদি সরকার সিঙ্গাপুর বন্দরকে দ্রুত জাহাজ ছাড়ের তাগাদা দেয়।

এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন পেয়েছি। ইতিমধ্যে আমাদের পেঁয়াজ তুরস্কের বন্দরে পৌঁছেছে। হয়তো আগামী ১ তারিখ রওনা হবে। সেই হিসাবে আগামী ২০-২১ তারিখ দেশের বন্দরে পেঁয়াজ পৌঁছবে।

গতকাল রাজধানীর বড় পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০-১২৫ ও মিয়ানমারের ১১০-১১৫ টাকা। এর আগের দিন দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ১১৮-১২২ ও মিয়ানমারের ১১০-১১২ টাকা।

শ্যামবাজারের আড়তদার আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমদানিকারকরা বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ ছাড়ছে না। আবার দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে স্থানীয় আড়তদাররা। আমারা তাদের থেকে সংগ্রহ করে এখানে বিক্রি করি। ফলে বাজার চড়া হয়ে উঠেছে।’

পাইকারিতে দাম বাড়ায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর খুচরা বাজারে। গতকাল কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল ও মিরপুর কাঁচাবাজারে আগের দিনের চেয়ে কেজিতে ১৫-২০ টাকা দাম বেড়েছে। বাজারভেদে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ আর মিয়ানমারের ১৪৫-১৫০ টাকা।

পেঁয়াজের এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে হতাশা ও ক্ষোভ রাজধানীবাসীর। তাদের অভিযোগ, দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজারকে অস্থিতিশীল করছে। যার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। কাঁঠালবাগান বাজারের ক্রেতা মোরশেদ আলম বলেন, ‘প্রশাসনের নাকের ডগায় এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বাড়ল। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখলাম না। দেশে প্রশাসন বলতে কিছু আছে কি না সন্দেহ।’

এদিকে গতকাল টিসিবি তাদের ওয়েবসাইটে পেঁয়াজের খুচরা বাজারের একটি তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে উল্লেখ করেছে, ৩০ অক্টোবর রাজধানীতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ১২০-১২৫ টাকা, আমদানিটা ১১৫-১২৫ টাকা। কিন্তু বাস্তবে এই দামের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সিটি করপোরেশন যে মূল্যতালিকা লিখে দিয়েছে তার সঙ্গেও বাস্তবতার কোনো মিল নেই। কারওয়ানবাজারে সিটি করপোরেশন পেঁয়াজের দাম লিখে রেখেছে ১৩০ টাকা। কিন্তু ওইসব দোকানে পাইকারিতেই দাম এর চেয়ে বেশি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারওয়ানবাজারের এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলেন, সিটি করপোরেশন নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম লিখে যায়। কখনই তাদের দেওয়া মূল্যের সঙ্গে বাজারের দামের মিল পাবেন না।