সাইবার আক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার থেকে বৈশ্বিক ইন্টারনেটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে রাশিয়া।
পৃথিবীর অন্য দেশের সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের তৈরি ওয়েব ভার্সন ‘আরইউনেটে’ পরীক্ষামূলকভাবে সংযুক্ত হবে রাশিয়া। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এই ইন্টারনেট ব্যবস্থা নেই।
ঠিক কখন সংযোগ দেওয়া হবে, আর কতক্ষণ সেটি চলবে তা জানা যায়নি।
দেশটির সরকার সাইবার আক্রমণের শঙ্কার কথা বললেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রাশিয়ানদের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এটি করা হচ্ছে।
ডি-রাশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইন্টারনেটের নিজস্ব এই মাধ্যম শহর থেকে আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যবহার করা হবে।’
রাশিয়া মনে করে, ইন্টারনেট নিয়ে তাদের এই পরীক্ষা পশ্চিমা প্রযুক্তি পদ্ধতির প্রতি নির্ভরতা কমাবে।
জাস্টিন শেরম্যান নামের এক প্রযুক্তিবিদ বলছেন, ‘বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সৃষ্ট গণতন্ত্রের আন্দোলন দেখে রাশিয়ার সরকার চিন্তিত। নিজেদের দেশে যেন এমন না হয়, তারা সেটি নিশ্চিত করতে চাইছে।’
ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সিস্টেমে হাজার হাজার ক্রম বা শ্রেণি আছে। এই সব নেটওয়ার্ক রাউটার পয়েন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে। চেইনে এগুলোই হল সবচেয়ে দুর্বল লিংক। রাশিয়া ওই রাউটার পয়েন্টগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, যার মধ্যে দিয়ে ডেটা দেশ-বিদেশে আদান-প্রদান হয়।
চীনের ইন্টারনেট ব্যবস্থা এমন পদ্ধতির। তাদের রাউটার পয়েন্টগুলো বিভিন্ন ফিল্টারে চলে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কীওয়ার্ড এবং নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ব্লক করা থাকে। এর ফলে সরকার যেসব ওয়েবসাইট নাগরিকদের দেখাতে চায় না, সেগুলোতে কেউ প্রবেশ করতে পারেন না।
বিভিন্ন দেশে কিছু সময়ের জন্য ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার নজির আছে। ২০১৮ সালে মৌরিতানিয়ায় দুই দিন নেট ছিল না। সাগরের তলদেশ থেকে যে ফাইবার ক্যাবল দিয়ে নেট যায়, সেটি কোনো কারণে কেটে গিয়েছিল। রাশিয়া কত দিন বন্ধ রাখে; কিংবা চীনকে অনুসরণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।