নিখোঁজের পর বাড়ি ফিরল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী, ধর্ষণের অভিযোগ পরিবারের

নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নে ইসলামি সভা শুনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে পার্শ্ববর্তী গ্রামের ৫ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। তাকে হাত পা বেঁধে দুই দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলে ভিকটিম ও তার পরিবার অভিযোগ করেছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে কৌশলে মেয়েটি পালিয়ে আসলে সকালে তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে হাসপাতালে ভিকটিম শিক্ষার্থীর সাক্ষ্য নিতে আসা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম জানান, দুই দিন আগে মেয়েটি নিখোঁজ হলেও কেউ থানায় অভিযোগ করেনি।  এখন ধর্ষণ ও নির্যাতনের খবর পেয়েই আমরা হাসপাতালে ছুটে এসেছি। তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

শিশুর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে পার্শ্ববর্তী গ্রামে একটি ইসলামি সভা শুনতে যায় ওই শিক্ষার্থী। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিবেশী এখলাছ মিয়ার ছেলে পিয়াল (২০) নামের এক বখাটে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে তার হাত পা মুখ বেঁধে দুই দিন আটকে রেখে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালায়। এদিকে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে গত বুধবার গ্রামবাসীদের মেয়ে নিখোঁজের কথা জানায়। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে মেয়েটি পালিয়ে চলে আসলে, তাকে সকালে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিক্ষার্থীর বাবা জানান, মেয়েটিকে না পেয়ে এলাকায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। পরদিন বুধবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের জানান। বৃহস্পতিবার মেয়েটি কোনোরকমে হাত মুখ বাঁধা অবস্থায় ভোররাতে তার এক মামার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়। পরে সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও বলেন এখলাছ মিয়া তার ছেলে পিয়াল ও স্ত্রী কন্যাসহ সবাই আমার মেয়েকে ডুলিতে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালায়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কাদের সুজা বলেন, বুধবার তারা আমাকে জানালে আমি থানায় ডায়েরি করার পরামর্শ দিই। তারা নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেছে কিনা তা আমার জানা নেই।