কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সাক্ষাতের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত ২১ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত তাদের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। গতকাল দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন ফ্রন্টের নেতারা। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফ্রন্টের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি না জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোনো অগ্রগতি নেই। গতকাল পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছু জানায়নি।’
গত ২১ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারা বাংলাদেশের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, জেএসডির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন ও ফ্রন্টের দপ্তর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু। সাক্ষাৎ শেষে আ স ম আবদুর রব দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফ্রন্টের নেতাদের সাক্ষাতের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।’
গতকাল এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে রব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোনো অগ্রগতি নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা কারা কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের দিনক্ষণ আমাদের জানায়নি।’
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রথমে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ফ্রন্টের পক্ষ থেকে যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল তাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ছিল না। কারণ তখন তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলেন। গত ২৪ অক্টোবর মির্জা ফখরুল দেশে ফেরেন। এরপর ড. কামালের সঙ্গে মির্জা ফখরুলসহ ফ্রন্টের নেতাদের বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু সে বৈঠক হয়নি ড. কামালের অসুস্থতার কারণে।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সর্বশেষ খবর সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দপ্তরপ্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোনো খবর নাই। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হবে। বৈঠক শেষে বলা যাবে সর্বশেষ খবর।’
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্প্রতি ড. কামাল হোসেনকে চিঠি দিয়েছেন গণফোরামের ছয়জন জ্যেষ্ঠ নেতা। নেতারা হলেন গণফোরামের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মফিজুল ইসলাম খান কামাল, জামালউদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট এসএম আলতাফ হোসেন, তোবারক হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল হক এবং স্থায়ী সদস্য অধ্যাপক ডা. এএ মাহমুদ বীরপ্রতীক। এই ছয় শীর্ষ নেতাই গণফোরামের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং প্রথম থেকেই ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক সঙ্গী। চিঠিতে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে দলের সভাপতিকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, এর মধ্যে সমাধান না হলে নিজেরা তলবি সভা অথবা বিশেষ সভা আহ্বান করবেন। এতে সারা দেশের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হবে। এ সভা থেকেই পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন ছয় নেতা।
তিনি বলেন, ছয় নেতার চিঠির ভাষা দেখে বোঝা যায়, তারা চান না ড. কামাল হোসেন বিএনপি এবং বিএনপির নেত্রীর পক্ষে কথা না বলেন। সবদিক বিবেচনায় মনে হচ্ছে চেয়ারপারসনের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের সাক্ষাৎ অনিশ্চিত।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদ-ে দ-িত হয়ে গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না। তবে বিএসএমএমইউর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।