বিবাহিত ও বয়স্কদের নিয়ে বিএনপি এখনো সিদ্ধান্তহীন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা পেতে আমরণ অনশন করছেন ছাত্রদলের অর্ধ শতাধিক বিবাহিত নেতা। অনশন কর্মসূচির

তৃতীয় দিন গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবাহিত ছাত্রদল নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্বহীনতার কারণে একের পর এক সংকট তৈরি হচ্ছে ছাত্রদলে। ১২-১৪ বছর ছাত্রদলের রাজনীতি করে জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করার পর এখন হঠাৎ করে বলা হচ্ছে বিবাহিতরা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা পাবে না। তবে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এদিকে ছাত্রদলের কমিটির বয়সসীমা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করায় বিলুপ্ত কমিটির ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের বহিষ্কারাদেশও গতকাল পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়নি। এ বিষয়ে বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি ইখতিয়ার কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংগঠনকে দুর্বল করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের যত তৎপরতা দেখা যায়, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না। একেকজন একেক ভেজাল লাগিয়ে কেটে পড়েন।

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও বিবাহিত ছাত্রদল নেতাদের বিষয়ে বিএনপি কী সিদ্ধান্ত নেবে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও বিবাহিতদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাকে সর্বশেষ পরিস্থিতি অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়ার পর সমস্যার সমাধান আসবে বলে মনে করেন তিনি।

বিবাহিত ছাত্রদল নেতারা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যে আমরণ অনশন করছেন সেখানে গিয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে খোকন বলেন, তাদের বিষয়টি আমরা জানি। কিন্তু দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তো আমরা যেতে পারি না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা পেলেই পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

বিবাহিত ছাত্রদলের নেতাদের অনশনের নেতৃত্বে থাকা বিলুপ্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মাদ নিজাম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বুধবার বেলা ১১টা থেকে আমরা আমরণ অনশন করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত দলের কেউ আমাদের কোনো খোঁজ নেননি। আমাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন না। তাহলে এতদিন ছাত্রদলের রাজনীতি করে আমরা কি অপরাধ করেছি?’

তিনি বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নেতারা আমাদের কাছে আসতে পারছেন না বলে আমরা জানতে পারছি। কারণ কে এসে কী বলে আবার অন্যদের রোষানলে পড়েন এই ভয়ে তারা পিছিয়ে পড়ছে। 

অনশনে অংশ নেওয়া অপর বিবাহিত ছাত্রদল নেতা মাইনুল ইসলাম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ষষ্ঠ কাউন্সিলে নির্বাচিত ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নিয়মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে যাচ্ছেন। তাদের আমরা সহযোগিতা করেছি। এখন আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা করে না দিলে আমরা সহযোগিতা করব না। তাহলে ছাত্রদলের নতুন দুই নেতা ক্যাম্পাসে যেতে পারবে না।

অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন সংগঠনটির সাবেক স্কুলবিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান, সাবেক সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ ভদ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদুর রহমান, ফরিদ হোসেন খান, ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম মল্লিক, এইচএম রাশেদ, কামাল আহমেদ, সানোয়ার আলম, মুজাহিদুর রহমান, মাহমুদুল আলম শাহিন, সাইফুজ্জামান সাইফুল, এমএ আশিক, নুরুল আলম আল আলামিন, শফিউল আলম প্রমুখ।

গত ২২ জুন শনিবার বয়সসীমা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত ১২ ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত ১২ নেতা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, সাবেক সহ-সভাপতি ইখতিয়ার কবির, সাবেক সহ-সভাপতি জয়দেব জয়, সাবেক সহ-সভাপতি মামুন বিল্লাহ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক ও সাবেক সদস্য আজীম পাটোয়ারী।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রত্যক্ষ ভোটে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান খোকন। সাধারণ সম্পাদক হন ইকবাল হোসেন শ্যামল। তাদের শিগগিরই কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে গতকাল পর্যন্ত তারা কমিটি গঠন করতে পারেননি।