স্কুলের জমি বিক্রি করলেন কমিটির সভাপতি!

ময়মনসিংহের ভালুকায় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি দখল ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতারা।

অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম মো. আবুল হাসেম। তিনি স্থানীয় পাঁচগাঁও সানরাইজ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি। তিনি নিজেও বিদ্যালয়ের একজন জমিদাতা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন মো. জসিম উদ্দিন মন্ডল নামে এক ব্যক্তি। দখল করা ওই জায়গা উদ্ধারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। জসিম উদ্দিন মন্ডল ওই বিদ্যালয়ের জমিদাতা আতব আলী মন্ডলের নাতি।

অভিযোগকারী জসিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যদের যোগসাজশে এই কাজটি করেছেন  আবুল হাসেম। তিনি ও তার ভাইরা বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমির একটি দাগ থেকে ৮ শতক জায়গা বিক্রি ও ১৬ শতক জায়গা দখল করেছেন। সেখানে তারা দোকানপাট তুলে সেই জায়গা ভোগদখল করছেন। তাছাড়া অন্য আরেকটি দাগ থেকে ৮ শতক জায়গা দখল করে সেখানে পোলট্রি ফার্ম করেছেন আবুল হাসেমের ছেলে।’

এদিকে অভিযোগদাতা জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও জমি দখলের অভিযোগ এনেছেন আরেকজন। ফেরদৌস কবীর নামে ওই অভিযোগদাতা বিদ্যালয়ের আরেক জমিদাতার ছেলে। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, বিদ্যালয়ের জমি দখলের উদ্দেশ্যে মাঠের দুই শতক জমিতে খুঁটি পুঁতেছেন জসিম উদ্দিন। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই স্কুল কমিটির সভাপতিসহ কমপক্ষে ৯ জন দখলদার বিদ্যালয়ের ১০-১২ শতক জমি ভোগদখল করে আসছেন।

জমিদখলে যোগসাজশের কথা অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও তার ভাইরা বিদ্যালয়ে ৬৪ শতক জমি দান করেছেন। সভাপতি ও তার তিন ভাই বিদ্যালয়ের কিছু জমি বিক্রি ও কিছু জমি দখলে নিয়ে দোকানপাট তুলে ভোগ করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি আবুল হাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জমি দখলের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল জানান, দলিল অনুসারে জমি পরিমাপ করে বিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।