নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের গাড়িতে থাকা বডিগার্ড ও চালকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের পর ধাওয়া করে একটি বিলাসবহুল জিপ গাড়ি আটক করা হয়েছে; যে গাড়িতে মিলেছে গুলি, মদ, বিয়ার ও ইয়াবা।
পুলিশ বলছে, গাড়িটি পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলের (৩৯)। রাসেল একই সঙ্গে পারটেক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আম্বর গ্রুপের চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়েছে। দুটি মামলাতেই রাসেলকে পলাতক আসামি দেখানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, শওকত আজিজ রাসেল ওরফে পারটেক্স রাসেল মাদকদ্রব্য ও সুন্দরী রমণীদের নিয়ে চলাফেরাসহ তাদের দিয়ে ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল করেন।
গতকাল শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রেস নোটে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ বলছে, ১ নভেম্বর শুক্রবার রাত ১টা থেকে ভোররাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পুলিশের ওই কার্যক্রম চলে।
গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না। কেউ যদি অপরাধ করে আর সে যত বড় কর্ণধারই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবেই। আমরা এ রকমই।’ তিনি বলেন, রাসেল একটা অপরাধ করে পালানোর সময় তল্লাশি করে তার গাড়িতে ২৮ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা, ২৪ বোতল বিদেশি মদ, ৪৮ ক্যান বিয়ারসহ ২২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এ সময় তিনি পিস্তল নিয়ে পালিয়ে গেলেও গাড়ির চালক মো. সুমনকে (২৯) গাড়িসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িচালক স্বীকার করেছেন, এসব মাদক রাসেল সেবন ও গুলিগুলো ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ‘রাসেলকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমি ঢাকার একটি ক্লাবে গেলে সেখান থেকে সে পালিয়ে যায়। পরে গুলশান এলাকায় এবং তার বাসায় অস্ত্রটি উদ্ধারে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।’
পুলিশ সুপারের প্রেস নোটে জানানো হয়, ডিবির এসআই জলিল মাতুব্বর শুক্রবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ে অবস্থান করছিলেন। রাত ১টায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের দেহরক্ষী কনস্টেবল মো. নাজমুল ইসলাম মোবাইল ফোনে ডিবিকে জানায়, পুলিশ সুপারকে ঢাকার বাসায় নামিয়ে দিয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়ে তেজগাঁও থানাধীন সাতরাস্তায় মগবাজার ফ্লাইওভারের কাছাকাছি পৌঁছালে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। তখন পুলিশ সুপারের গাড়ির চালক জুয়েল মিয়া হর্ন দিলে সামনে থাকা ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-৮৩৭৫ নম্বরের জিপ গাড়ির ভেতর থেকে একজন লোক নেমে আসে। ওই সময় পুলিশ সুপারের গাড়ির বাম পাশের সাইডের গ্লাসে জোরে আঘাত করে গালিগালাজ করে। বলতে থাকে ‘আমি পারটেক্স রাসেল, গাড়ির দরজা খোল।’ ওই সময় নাজমুল গ্লাস খুলে প্রতিবাদ করলে ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় পিস্তল তাক করে ধরে। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে বডিগার্ড নাজমুল নেমে যায়। তখন পুলিশের লোক বুঝতে পেরে দ্রুত জিপে পালাতে থাকলে ড্রাইভার ও বডিগার্ড গাড়িটির পেছনে পেছনে ফলো করতে থাকে। রাত পৌনে ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে পাকা রাস্তার ওপর তখন ডিবির টিম অবস্থান করে। ভোররাত সোয়া ৩টায় জিপ গাড়িটি নারায়ণগঞ্জের দিকে আসতে দেখে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সদের সহায়তায় সিগন্যাল দিয়ে গাড়ির ভেতর ড্রাইভিং সিটে বসা অবস্থায় চালক সুমনকে আটক করা হয়। ওই গাড়ি থেকে গুলি, মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।