ভারতকে প্রথমবার ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারিয়েও বাংলাদেশ দলের কোনো হেলদোল নেই! ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করার পর উদযাপন করেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। মুশফিকুর রহিম ম্যাচ জেতানো ৬০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেও নির্বিকার। গেল রাতে দিল্লির দুর্দান্ত জয়ের পরও এমন নির্বিকার ছিল কেন বাংলাদেশ?
‘উদযাপন তো উদযাপন। সিরিজ তো আপনি এখনো জেতেননি। আরও দুটি ম্যাচ আছে।’ ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে ম্যান অব দ্য ম্যাচ মুশফিক হাসিমুখেই বলছিলেন, ‘এর একটা জিতে সিরিজটা জিতি। তারপর না হয় ইনশাআল্লাহ আরও ভালো উদযাপন করব।’
২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুতে শেষ ওভারের ট্র্যাজেডির খলনায়ক ছিলেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। ৩ বলে ২ রানের হিসাব না মেলাতে পেরে আউট হয়ে সহজে জেতা ম্যাচ হেরেছিলেন। ওই শেষ ওভারে দ্বিতীয় বাউন্ডারিটা মেরে উৎসব করে পরে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মুশফিক। তার সেই দুঃখ কি এই জয়ে মুছে যাবে এবার?
ওই ম্যাচ কথায় কথায় বার বার এলো। কিন্তু প্রতিবার নীরব দীর্ঘশ্বাসও মুশফিকের উচ্চারণে থাকল, ‘বিশ্বকাপ তো অনেক বড় আসর। একেবারে ভিন্ন। নিজের সেরাটা দেখানোর ব্যাপার থাকে।’ স্নায়ুর চাপ সামলে জয় তুলে নেওয়ার পর এই ম্যাচের সঙ্গে ওই ম্যাচের তুলনা করতে গিয়ে অবশ্য বললেন, ‘ওই ম্যাচটা (২০১৬) আমাদের জন্য আরও সহজ ছিল। দুই ওভার আগেই আমরা জয়ের মতো অবস্থায় ছিলাম। এই ম্যাচে উইকেট হাতে থাকলেও দুই ওভার পর্যন্ত কঠিন অবস্থাতে ছিলাম। এই উইকেটে এত রান তাড়া করে জেতা কষ্ট ছিল।’
গেল কিছুদিনে খেলোয়াড় আন্দোলন, ধর্মঘট, সাকিব আল হাসানের নিষিদ্ধ হওয়া, হঠাৎ তামিম ইকবালের ছুটিতে চলে যাওয়ার পরও এমন ক্রাইসিসের মধ্যে শুরুতে এমন জয়! মুশফিক ধন্যবাদ দিলেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে, ‘প্রধান কোচকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। কারণ শেষ তিন সপ্তাহ আমাদের যেমন গিয়েছে তার মধ্য থেকে তিনি যে দলটাকে একটা অবস্থার মধ্যে গুছিয়ে আনতে পেরেছেন সে জন্য। বিশেষ করে তরুণদের স্বাধীনতা দিয়ে খেলতে দেওয়ার জন্য।’
এর সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক জয়ের নায়কদের কথাও আনলেন মুশফিক, ‘আমাদের দুজন মূল খেলোয়াড় ছিল না। তামিম-সাকিবকে আমরা মিস করেছি। ওরা একা একা অনেক জিতিয়েছে। কিন্তু ওরা নেই, তারপরও যে এভাবে জেতা সম্ভব তা আমাদের জন্য বড় ব্যাপার।’ এক বছরের ছেলে সন্তান মায়ানকে এই জয় উৎসর্গ করেছেন মুশফিক।
ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা এই হারের পেছনে নিজেদের কিছু ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি, ‘আমি বলেছিলাম তারা এমন দল যারা যে কাউকে হারাতে পারে।’ রোজকোটে ৩ ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয়টিতে ৭ তারিখে ফিরে আসার প্রত্যয়ে রোহিতের উচ্চারণ, ‘আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চাই।’