নতুন সড়ক পরিবহন আইনের বাস্তবায়ন আজ সোমবার থেকে শুরু করতে যাচ্ছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। গত শুক্রবার থেকে শুরু হলেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে এই কদিন আইন কার্যকর করতে পারেনি পুলিশ। আজ থেকে নতুন আইনে মামলা করার জন্য সিøপ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে। তবে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে আগামী সাত দিন কোনো পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে আইন কার্যকরের দিন থেকেই সতর্ক হতে শুরু করেছেন গাড়িচালকরা। প্রথম দিন থেকে আইনের যথাযথ প্রয়োগে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকলেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাচ্ছেন চালকরা। রাজধানীর রাস্তায় ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র সংবলিত কোনো পরিবহন বের হচ্ছে না। বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে না কোনো গাড়ি। অনেকেই তাদের ত্রুটিপূর্ণ কাগজের বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শও নিচ্ছেন। নতুন আইনের কঠোরতার জন্য বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও মালিকরা সতর্ক রয়েছেন। তবে রাজধানীতে গাড়ি পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারের চালকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হবে বলে মনে করছেন চালকরা। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দায়িত্বরত পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও গণপরিবহনের চালকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাজধানীর ফার্মগেটে স্বাধীন পরিবহনের চালক রকিবুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাস্তায় বাস আগের থেকে কম নেমেছে। যাদের বৈধ কাগজ আছে তারাই নেমেছে। আমরাও চাই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। কিছু চালকের জন্য সবার বদনাম হয়।’
ট্রাফিক পুলিশ বলছে, আইনের যথাযথ প্রয়োগের আগে চালক ও পথচারীদের আইনের কঠোরতা সম্পর্কে সচেতন করা তাদের প্রধান কাজ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই তারা এই সচেতনতামূলক কাজ পরিচালনা করছে। তবে কোনো চালক যদি আইনের বড় ধরনের লঙ্ঘন করে, তবে নতুন রেকার আইনে মামলা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ট্রাফিকের এক সার্জেন্ট। আগামী এক সপ্তাহ এই সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড চলবে।
দেশব্যাপী নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস করে। কিন্তু মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপে এটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করতে পারেনি। আইন করার এক বছরের বেশি সময় পর গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে আইনটি।
গত শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় বিআরটিএর কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী সাত দিন সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। এ সময় কোনো পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। নতুন সড়ক পরিবহন আইন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা কমাসহ সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন আইনের বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আইনের প্রয়োগ কাল (আজ সোমবার) থেকে শুরু হবে। মামলার জন্য সিøপ তৈরি করা হয়েছে। পজ মেশিনে মামলা দিতে মাসখানেক সময় লাগবে। ’
সরকারের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এক সপ্তাহ মামলা না দেওয়ার ঘোষণার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত কোনো নির্দেশনা আসেনি।’
গতকাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় গণপরিবহন বিশেষ করে বাসের সংখ্যা খুবই কম। ট্রাফিক নির্দেশনা মেনেই গাড়ি চালাচ্ছেন চালকরা। এরপরও যারা নিয়ম মানছে না তাদের থামিয়ে সচেতন করছে ট্রাফিক পুলিশ। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মগবাজার সিগন্যালে কথা হয় ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের রমনা জোনের সার্জেন্ট মো. গোলাম মস্তফার সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী মামলা দেওয়া হচ্ছে না। তবে র্যাকার দেওয়ার যোগ্য হলে সিনিয়র স্যারদের অনুমতি নিয়ে রেকার সিøপে মামলা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন আইন কার্যকরে সড়কে গাড়ির সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ড্রাইভারদের কাগজপত্র ঠিক না থাকলে তারা রাস্তায় নামছে না।
বাংলামোটরে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট নাহিদুর রহমান বলেন, আমরা এখন চালকদের অপরাধ ধরিয়ে দিচ্ছি। আইন সম্পর্কে সচেতন করছি। যদি কেউ গুরুতর অপরাধ করে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। চালকরা ভয়ে হিসাব করে গাড়ি চালাচ্ছে। এখন রাস্তায় যে গাড়ি চলছে তার ৯৫ ভাগের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তবে রাত ১০টা-১১টার পর কিছু গাড়ি রাস্তায় নামে যাদের কাগজপত্র ঠিক থাকে না।
বাংলামোটরে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারের চালক রবিউল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার পরই পূর্ণাঙ্গভাবে আইন বাস্তবায়ন করা হোক। না হলে আমরা ভোগান্তিতে পড়ব।’