চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে অযোগ্য হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী গতকাল সোমবার শহীদ মিনার চত্বরে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা ভর্তির দাবিতে উপাচার্যের কাছে আবেদন করেন।
কর্র্তৃপক্ষ বলছে, ২০১৮ সালে আবেদনের যোগ্যতা থাকলেও পরীক্ষা দেয়নি। পরে তারা ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিয়ে গ্রেড পয়েন্ট বাড়িয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে আবেদন করে। সফটওয়্যারের ভুলে যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ভর্তি পরীক্ষাতেও তারা উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু বিষয়টি নজরে আসার পর তাদের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
অযোগ্য ঘোষণার প্রতিবাদে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, মানোন্নয়নকৃত শিক্ষার্থীর আবেদনের যোগ্যতা নিয়ে ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে অস্পষ্টতা ছিল। অনলাইনে ১১ হাজার ৭৪১ মানোন্নয়নকৃত শিক্ষার্থী আবেদন করলে প্রবেশপত্র পান। পরে তারা পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার পর কর্র্তৃপক্ষ বলছে তারা ভর্তির অযোগ্য।
বিক্ষোভ চলাকালে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এসে আন্দোলনকারী পাঁচজনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনার একপর্যায়ে তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপি ভর্তি কমিটিকে পাঠানো হলে, প্রত্যেককে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম ও মানোন্নয়নের পর দুটি মার্কশিট ও ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংযুক্ত করে লিখিত আবেদন করতে বলা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিকেলে তাদের আন্দোলন স্থগিত করেন।
আন্দোলনের মুখে ভর্তিসংক্রান্ত কোর কমিটি গতকাল বৈঠক করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। আজ এ বিষয়ে বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সচিব এস এম আকবর হোছাইন। তিনি বলেন, ‘আমরা গত রবিবার ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তের পর বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। সঠিকভাবে না দেখেই শিক্ষার্থীরা আবেদন করেছে। ফলে নিয়মবহির্ভূতভাবে আবেদনের মাধ্যমে তারা ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের অসচেতনতায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এখন আমরা প্রত্যেককে আলাদা আবেদন করতে বলেছি। মঙ্গলবার এ বিষয়ে কমিটির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে ভর্তিচ্ছুদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর তিন দফা দাবির স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। দাবিগুলো হলোÑ ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ঘটে যাওয়া কারিগরি ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানের জন্য দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন, ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে শাটল ট্রেনে ফেরার সময় নিহত নির্মল দাশের পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও ২০১৯-২০ সেশনে ভর্তির নীতিমালা অনুসারে উচ্চ মাধ্যমিকে মানোন্নয়ন সংক্রান্ত নীতিমালার বাইরে আবেদনের অযোগ্য হয়েও সিস্টেমের ফাঁক গলে যারা আবেদন করে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের ভর্তির বিষয়টি বিবেচনা করা।
এছাড়া যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু। তারা বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবি আমরা উপাচার্যকে জানিয়েছি। তিনি ডিন, ভর্তি কমিটির সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।