বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় দুই আসামি রাফিউল ইসলাম রাব্বী ও এক কিশোরকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ দুজনের জামিনের আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির
উল্লাহ। কিশোর আসামির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ছগির হোসেন। রাফিউল ইসলাম রাব্বীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির। বিচারিক আদালতে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর আসামি রাব্বী এবং ওই কিশোর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বশির উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, রাফিউল ইসলাম রাব্বীর বয়স ২০ বছর। রিফাত হত্যার পর সে এ মামলার একজন আসামিকে (সিফাত) তার বাড়িতে আশ্রয় দেয়। এ অভিযোগে রাব্বীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর কিশোর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঘটনার সময় সে পাহারায় ছিল এবং একপর্যায়ে রিফাতকে কিল-ঘুষি দিয়ে আঘাত করে। জামিন পেতে দুজনই আবেদন করেছিল। হাইকোর্ট দুজনের জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।’
কিশোর আসামির আইনজীবী ছগির হোসেন বলেন, ‘আদালত বলেছে, এটি একটি স্পর্শকাতর মামলা। জামিন বিষয়ে এখনই কোনো আদেশ দিতে পারবেন না তারা। দুটি আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছে হাইকোর্ট।’
গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে ও স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পরদিন ১২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় এক নম্বর সাক্ষী করা হয় মিন্নিকে। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।
গত ১৬ জুলাই সকালে মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। রিমান্ডে নেওয়ার পর গত ১৯ জুলাই পুলিশ সুপার জানান, রিফাত হত্যার সংশ্লিষ্টতায় মিন্নি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন দাবি করেন, জবরদস্তি ও তড়িঘড়ি করে মিন্নির কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। গত ২৯ আগস্ট হাইকোর্টে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান মিন্নি।