হাতীবান্ধায় স্বেচ্ছাশ্রমে ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের মধ্য গড্ডিমারী গ্রামে ‘ফ্রেন্ডশিপ সোশ্যাল ওয়ার্ক’ নামের সংগঠন সাঁকোটি তৈরি করে। এতে তিন গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের চলাচলে এখন অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে। গত মঙ্গলবার চলাচলের জন্য সাঁকোটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
ফ্রেন্ডশিপ সোশ্যাল ওয়ার্ক সংগঠনের সভাপতি নুরনবী জানান, গড্ডিমারী ইউনিয়নের মধ্য গড্ডিমারী গ্রামে একটি ব্রিজ ২০১৫ সালের বন্যায় ভেঙে যায়। ২০১৭ সালের বন্যায় পুনরায় ভাঙা ব্রিজটির দুই পাশের রাস্তা ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে হয়। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা এই বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেছি।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, একটি সাঁকো নির্মাণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অনেক যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু গত চার বছরেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তাই আমরা নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামে ঘুরে ঘুরে বাঁশ সংগ্রহ করি। ওই বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করা হয়েছে।
২০১৫ ও ২০১৭ সালের বন্যায় যোগাযোগের জন্য পথটি বন্ধ হয়ে গেলে গড্ডিমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মধ্য গড্ডিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিলন বাজার আবুল হোসেন আহম্মেদ মাদ্রাসা, আফজাল হোসেন দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ তিনটি গ্রামের মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বুধবার সরেজমিন ঘুরে শিক্ষার্থী আইনুন নাহারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে বিদ্যালয়ে পৌঁছতে হতো। সাঁকোটি নির্মাণ হওয়ায় এখন আর রাস্তা ঘুরতে হবে না। মধ্য গড্ডিমারী গ্রামের হোসেন আলী (৫০) বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় এই দুই বছরে অনেক কষ্ট করেছি। যারা কাজটি করেছে তাদের ধন্যবাদ।
গড্ডিমারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল বলেন, স্থানীয় তরুণরা নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন, এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান আতি বলেন, ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি সেখানে অতি দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, স্থানীয় কিছু যুবক নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে, বিষয়টি জেনে ভালো লেগেছে।