বাবা-মা ও সন্তানের জন্য

অনেক বাচ্চাই বাবা-মায়ের ঝগড়ার মধ্যে পড়ে যায়। তাদের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চারা এই ঝামেলা নিতে না পেরে ভুল পথে, বাজে সঙ্গ এবং নেশার দিকে ধাবিত হয়। ক্ষতি হয় আদতে বাবা-মায়েরই। আদরের সন্তানটি বিপথে চলে যায়। বাবা-মা এবং সন্তানের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত জানালেন আশফাক ইমতিয়াজ

বাবা-মায়ের করণীয়

অনেক বাবা-মা জোর করে বাচ্চাদের ওপর তাদের মতামত চাপিয়ে দেন। এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। বাচ্চারা একটা সময়ের পর অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই বাবা-মা যদি অকারণে বাচ্চার ওপর চাপ তৈরি করেন, তাহলে ফল হবে উল্টো। সেই সঙ্গে বাচ্চাদেরও একটা বিষয় বুঝতে হবে, জীবনে অনেক অসুবিধা আসবে বাবা-মার শাসন ও মানতে হবে। বাবা-মা বকাঝকা করলে কি সারাজীবন সেই দুঃখের সময়কে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াবে? এই ধারণা কিন্তু ছাড়তে হবে। আবার বাবা-মাযেরও ঝগড়া বা বাজে আচরণ করার সময়ও তাদের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কারণ তাদেরও আলাদা ব্যক্তিত্ব রয়েছে।

সন্তানের করণীয়

বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া কিংবা মতের অমিল হতেই পারে। এর কারণ এবং সমাধানও তাদের কাছে। তাই সন্তানকে ভুলে গেলে চলবে না দুঃখজনক অতীত কিন্তু বর্তমানকেও নষ্ট করে দেয়। তাই বাবা-মাকে দোষ দেওয়া ছেড়ে নিজেই ভাবো, কীভাবে বেরোনো যায় এই খারাপ পরিস্থিতি থেকে। তাহলেই দেখবে খারাপ সময়টা পেছনে পড়ে থাকবে আর তুমি গতিতে এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। ভাবো সন্তান হিসেবে তুমি কী করলে এ ধরনের সমস্যা তোমাকে স্পর্শ করবে না। যা বাবা-মায়ের ঝামেলা থেকে বেরিয়ে আসতে তোমাদের সাহায্য করবে।

ভালো কিছু খুঁজে বের করা এবং ব্যস্ত থাকা

বাবা-মায়ের খারাপ ব্যবহারের মধ্যেও অনেক ভালো কিছু আছে? এ কথা সব সময় মনে রাখবে,  সন্তানকে। যত দুঃখের মধ্য দিয়ে যাবে, তত মানসিক জোর বাড়বে। ফলে আগামী দিনে জীবনের চলার পথ অনেকটাই মসৃণ হয়ে যাবে। বাবা-মাকে দোষ দেওয়া ছেড়ে দিতে হবে। বরং তাদের ধন্যবাদ দিতে হবে যে, তাদের ঝামেলার মধ্য থেকে বড় হতে হতে তোমরা প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠেছো। বাবা-মাও কিন্তু মানুষ! এটা সন্তানকে মনে রাখতে হবে আর তোমার ভালোর জন্যই সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাবা-মা। তাই যখনই বাবা-মাকে খারাপ ব্যবহার করতে দেখবে, তখন ভাববে, তারা হয়তো তোমার ভালোর জন্য এমনটা করছেন। যখনই দেখবে এই সরল সত্যটা বুঝে গেছো, তখন আর বাবা-মায়ের প্রতি রাগ জন্মাবে না।

নিজেকে নিয়ে ভাব

বাবা-মায়ের খারাপ ব্যবহার থেকে বাঁচতে আরও একটা সহজ উপায় হলো_ প্রতি মুহূর্তে নিজের দিকে তাকানো। বোঝার চেষ্টা করা কীভাবে তাদের ব্যবহার তোমাকে খারাপ করে দিচ্ছে। তুমি কি সব সময়ই এমন বিদ্রোহী? সব সময়ই কি মনে হয় আর কিছু করার নেই? তাহলে আজ থেকেই নিজেকে সামলাতে শুরু করো। আর ভাবো কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় এই কোন্দল থেকে। খারাপ মনকে ভালো করার একটাই উপায় আছে। নিজেকে ভালো ও নানা কাজে ব্যস্ত রাখা। কখনোই নেশায় জড়িয়ে জীবন নষ্ট করে দেবে না।

সমস্যা জমিয়ে না রাখা

বাজে চিন্তা যত মনের মধ্য থাকবে, তত ভেতরটা বিষিয়ে যাবে। তাই মনের কথা উজাড় করে বলে ফেলো। কোনো খারাপ কথা বা চিন্তা নিজের মধ্য রাখবে না। এমনটা করলে দেখবে মানসিক শান্তি আসবে। তাই এবার থেকে মন খারাপ হলে এমন কারোর কাছে যাও, যাকে

তুমি বিশ্বাস করতে পারো। আর তাকে বলে ফেলো সব মনের কথা। দেখবে সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।