সুদীপের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর করেছেন সুদীপ দাস। আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও টানা তৃতীয়বারের মতো জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে ১৩তম বিজেএস’র (বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস) সহকারী জজ নিয়োগের প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) পরীক্ষা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

আগামীকাল শুক্রবার এ পরীক্ষা হওয়ার কথা। কিন্তু নিয়মে শ্রুতিলেখকের সুযোগ না থাকায় ময়মনসিংহের নান্দাইলের চ-ীপাশা গ্রামের সুদীপ দাসের পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে দমে যেতে রাজি নন সুদীপ। গতকাল বুধবার শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে পরীক্ষার সুযোগ পেতে হাইকোর্টে রিট করেছেন তিনি। সুদীপের আইনজীবী কুমার দেবুল দে দেশ রূপান্তরকে জানান, বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। আগামীকাল (আজ) শুনানি হবে। সেখানে ইতিবাচক কিছু হবে বলে আশা করছি। সুদীপ অদম্য মেধাবী। শুধুমাত্র শ্রুতিলিখন পদ্ধতির সুযোগ না থাকায় তার পরীক্ষা দিতে না পারা হবে দুঃখজনক।

গতকাল সুপ্রিম কোর্টে সুদীপ এই প্রতিবেদককে জানান, দুবছর বয়স থেকে তার দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। রেটিনায় সমস্যার কারণে প্রায় অন্ধ হয়ে গেছেন। এভাবেই শ্রুতিলেখক নিয়ে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে বন্ধুদের সহায়তায় ২০১৪ সালে স্নাতক ও ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর করেন। এরপর বিচারক হওয়ার ইচ্ছেপূরণে সুদীপ ২০১৭ সালে বিজেএস পরীক্ষায় আবেদন করেন। প্রবেশপত্র পেলেও শেষ মুহূর্তে নিয়মে নেই জানালে অভিমানে পরীক্ষা দেননি। ২০১৮ সালে পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলেও, সুযোগ না মেলায় খাতায় স্বাক্ষর করে প্রতিবাদ জানিয়ে বেরিয়ে আসেন।

সুদীপ বলেন, ‘এবার বিজেএস পরীক্ষায় আবেদনের পর শ্রুতিলেখকের সুযোগ চেয়ে ৪ নভেম্বর জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে আবেদন করি। বরাবরের মতো এবারও নিয়ম নেই বলা হয়। এরপরই হাইকোর্টে রিট করেছি। আশা করছি, এবার বঞ্চিত হব না।’ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘বহু সংগ্রাম করে এ পর্যন্ত এসেছি। বিচারক হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব। কিন্তু আমাকে বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে। চাকরির সুযোগই যদি না দেওয়া হবে, রাষ্ট্র আমাকে কেন শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ দিল? ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ অনেক দেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা বিচারক নিয়োগ হয়েছেন। আমাদের সমস্যা কোথায়?’