কাউন্সিলর মিজান রাজীবের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব ও ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আলাদা দুটি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলা দুটি করা হয় বলে দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, রাজীবের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী ও মিজানের বিরুদ্ধে কমিশনের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলা করেন। রাজীবের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২৬ কোটি ১৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকার সম্পদ এবং মিজানের বিরুদ্ধে ৩০ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, রাজীবের ঢাকার মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর রোডের ৩৩ নম্বর প্লটে একটি দোতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি, মোহাম্মপুরের কাটাসুর ৩নং রোডে একটি প্লট, মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেডের পাঁচতলা ও চারতলা দুটি বাড়ি, একই এলাকার চান মিয়া হাউজিং লিমিটেডে তিনতলা বাড়ি, মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ৬ নম্বর সড়কে ছয় কাঠা জমি রয়েছে। এসব সম্পদ তার অবৈধ অর্থে উপার্জিত। এজাহারে আরও বলা হয়, রাজীব নিজের নামে-বেনামে এবং তার চাচা ইয়াছিন হাওলাদার ও অন্যের নামে ১১ কোটি ৯০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করে নিজ দখলে রেখে ভাড়াসহ অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করছেন। এ সব সম্পদ তার আয়কর নথিতে উল্লেখ করেননি এবং আয়ের কোনো বৈধ উৎস নেই।

এদিকে মিজানের বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তিনি মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বছিলার ৩০ কাঠা জমি দখল করে মার্কেট গড়েছেন। ওই মার্কেটের আশপাশে ৪৮২ কাঠা জমি দখলে নিয়ে ২০টি টিনের দোকান করে ভাড়া তুলছেন। এ ছাড়া লালমাটিয়া বি-ব্লকে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে ‘স্বপ্নপুরী হাউজিং’ গড়ে তোলা, একই হাউজিং এলাকায় আরেক জায়গায় ১০ কাঠা জমিতে ‘পপুলার অর্কিড’ নামে ছয়তলা ভবন, পাশে আরেকটি ১০ কাঠা জমিতে ‘ইমপেরিয়াল গার্ডেন’ নামে ছয়তলা ভবন, আরেকটি ১০ কাঠা জমিতে দুই ইউনিটবিশিষ্ট ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। অন্যদিকে ‘স্বপ্নপুরী হাউজিং কমপ্লেক্সে’-এর দুই হাজার গজ দূরত্বে ‘আড়ং মার্ট’ নামে ১৫ কাঠার জমিতে নির্মাণাধীন সাততলা ভবনের মালিক মিজান। এসব ভবন নির্মাণে তিনি ১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।