দিনাজপুরে এক যুবলীগ কর্মীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে থানার ভেতরে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, গত ৫ নভেম্বর রাতে যুবলীগ কর্মী আবদুল্লাহ আল মামুনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে রাশেদসহ ১০-১৫ জন মিলে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভেতরে মারধর করেন। পরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী ওই যুবলীগ কর্মীর স্ত্রী মোছা. আকতারিনা বেগম চিরিরবন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এতে বলা হয়, বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া বিদ্যুৎ বিভাগের স্থানীয় এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় মামুনকে মারধর ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আকতারিনার করা অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে যুবলীগ সভাপতি রাশেদ পারভেজ এবং দিনাজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর রিটেইনার প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীমসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১৫ জন যুবলীগ কর্মী মামুনের বাড়ির সামনে গিয়ে চিৎকার ও গালাগাল করতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে মামুন বাড়ি থেকে বের হলে তাকে টেনেহিঁচড়ে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে
গিয়ে মারধর করে অভিযুক্তরা। পরে মামুনকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়। পরদিন জামিনে মুক্ত হয়ে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন মামুন। সেখান থেকে গতকাল ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।
মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রিটেইনার প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীমের বিরুদ্ধে। টাকা নিয়েও বিদ্যুতের সংযোগ এলাকাবাসী না পাওয়ায় তারা আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে। আমি বিদ্যুতের সংযোগের বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় কথা বললে কর্র্তৃপক্ষ দ্রুত সংযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে মাসুদ রানা শামীম বিষয়টি জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজকে বললে তিনি আরও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আমাকে মারধর করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাশেদ পারভেজসহ আরও ১০-১৫ জন মিলে রানীরবন্দর থেকে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসার আগেও আমাকে বাইরে মারধর করে এবং পরে থানায় নিয়ে এসেও গোলঘরের ভেতরে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে। এরপর আমার বিরুদ্ধেই রিটেইনার প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীম মামলা করেন। এমন নির্মম নির্যাতনের বিষয়ে ইতিমধ্যে চিরিরবন্দর থানায় আমার স্ত্রী একটি অভিযোগ করেছে এবং আমিও তাদের বিরুদ্ধে মামলার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ বলেন, ‘আমার কাছে মামুনের নামে বিভিন্ন জায়গায় যুবলীগের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি ও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আসছে। এজন্য আমি তাকে ডেকে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করি। আমি তার গায়ে হাত দিইনি।’
অন্যদিকে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ বলেন, ‘গত ৬ নভেম্বর থানায় চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। তবে থানার ভেতরে মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই।’