সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত

বাদল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী : প্রধানমন্ত্রী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মঈনউদ্দীন খান বাদল এমপিসহ কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রীর মৃত্যুতে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে এ শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী

 শেখ হাসিনাসহ বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদও শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন।

সাবেক মন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা, সাবেক সংসদ সদস্য হুমায়ুন কবীর, সাবেক সংসদ সদস্য মো. কফিল সোনার ও সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট নুরভানুর মৃত্যুতেও সংসদ থেকে গভীর শোকপ্রকাশ করা হয়। মৃত্যুবরণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়।

শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, মঈনউদ্দীন খান বাদল ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান রয়েছে। তিনি সবসময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন, শান্তিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি যখন ভাষণ দিতেন তখন প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে যেত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মঈনউদ্দীন খান বাদল কথা বলতেন এলাকার উন্নয়নের জন্য। সবসময় তিনি সক্রিয়  ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার মৃত্যুতে এলাকাবাসীর ক্ষতি হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির অঙ্গনে আমরা যারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছি, আমরা যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, এমনকি সেই আইয়ুববিরোধী আন্দোলন নিয়ে ছয় দফা আন্দোলন, উত্তরা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার আন্দোলনÑ প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি জাসদে যোগ দেন। আমরা যখন জোট গঠন করি, তখন আমাদের সঙ্গে তিনি সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলন, সংগ্রামে, রাজপথে এবং এই সংসদে তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনায় তিনি যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যু আজকে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র দুদিন আগেই আমি তার খোঁজ নিয়েছি। তিনি অসুস্থ ছিলেন তার স্ত্রী সবসময় আমাকে মেসেজ পাঠাতেন, খবর জানাতেন। দু’দিন আগেও আমি তার কাছ থেকে মেসেজ পাই। আজকে সকালে যখন খবরটা পেলাম এটা সত্যিই একটি বিরাট ধাক্কা লেগেছিল। কারণ আমি ভাবতেই পারিনি আজকে এভাবে মৃত্যুবরণ করবেন তিনি। কারণ পার্লামেন্ট শুরু হবে তিনি আসবেন এবং দ্রুত সুস্থ হতে হবেÑ এটা তিনি সবসময় চিন্তা করতেন। আমাদের দুর্ভাগ্য তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আমরা আর শুনতে পারব না।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ভাষাসৈনিক ডা. এম রফিকুল বারী, বীরমুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক মো. শামসুদ্দিন, পদকপ্রাপ্ত প-িত সত্যপ্রিয় মহাথেরো, বিশিষ্ট সাংবাদিক, গবেষক, ও ভাষাসৈনিক মুহাম্মদ মুসা, পাক্ষিক অনন্যার সাবেক নির্বাহী সম্পাদক দিল মনোয়ারা মনু, বরেণ্য চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকার, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক শ্রম সম্পাদক আলহাজ মকবুল আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের মা চ য়ই-এর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করা হয়।

এর বাইরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সংসদ থেকে গভীর শোকপ্রকাশসহ সবার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। এর আগে সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী বর্তমান সংসদের সদস্য মঈনউদ্দীন খান বাদলের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় অংশ নেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, জাসদের হাসানুল হক ইনু, আ স ম ফিরোজ, আবুল কালাম আজাদ, শাজাহান খান, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মশিউর রহমান রাঙ্গা। সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী দিনের অন্যন্য কার্যসূচি স্থগিত করে সংসদে বৈঠক মুলতবি করা হয়।