শুভ জন্মদিন লিও: দেখতে পারেন এই পাঁচ সিনেমা

আজকাল ফ্র্যাঞ্চাইজি সিনেমার বদৌলতে বছরের পর বছর রাজত্ব করছেন অনেক নায়কই। তাদের চেয়ে একদম আলাদা লিওনার্দো ডিকাপ্রিও। সিনেমায় সুপারহিরো চরিত্র নয়, বরং তিনি নিজেই বাস্তবের সুপারহিরো। সময় নিয়ে একেকটি ছবি করেন, আর দর্শক-অনুরাগীরা সরবে হাজির হয় প্রেক্ষাগৃহে।

মূলত ‘টাইটানিক’ ছবি দিয়ে তিনি হলিউডে বড় তারকায় পরিণত হন। অবশ্য এর আগে করা সিনেমাগুলো কম বিখ্যাত নয়। রোমাঞ্চ, অ্যাকশন বা ড্রামা- সব ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলে পান। তার অভিনীত আটটি সিনেমা অস্কারে সেরা ছবির মনোনয়ন পায়, জেতে দুইবার। আর সেরা অভিনেতার পাঁচটি মনোনয়নের পর একবার জেতেন।

বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে চলছে লিও অভিনীত ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’। এই সুঅভিনেতা জন্মদিনে আবার দেখতে পারেন এই পাঁচ ছবি-

দ্য ডিপার্টেড: এই থ্রিলিং ক্রাইম ড্রামার মূল চরিত্র দুটি। মাফিয়াদের মধ্যে ছদ্মবেশে থাকে একজন পুলিশ। অন্যদিকে পুলিশ বিভাগে কাজ করে মাফিয়াদের একজন। দুই চরিত্রে থাকেন যথাক্রমে লিও ও ম্যাট ডেমন। তাদের মধ্যে চলে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় স্থির থাকেন দর্শক। ২০০৬ সালে মুক্তি পেয়ে অস্কারে সেরা সিনেমা ও পরিচালক-সহ চার বিভাগে পুরস্কার পায় ‘দ্য ডিপার্টেড’। পরিচালনা করেছেন মার্টিন স্কেরসেজি।

টাইটানিক: লিও অভিনীত সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র জ্যাক ডসন। সেরা ছবি ও পরিচালক-সহ এগারোটি বিভাগে অস্কার জেতে জেমস ক্যামেরনের ‘টাইটানিক’। ডিকাপ্রিও ও কেট উইন্সলেটের অভিনয় সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মন কাড়ে। তাদের দুঃখে কেঁদেছেন সবাই। বক্স অফিসে সর্বকালের শীর্ষ আয়ের রেকর্ড গড়ে। ১৯৯৭ সালের সেই রেকর্ড ভাঙতে জেমস ক্যামেরনের লেগেছিল এক দশক।

শাটার আইল্যান্ড: মার্টিন স্কেরসেজির রহস্যধর্মী সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১০ সালে। ভয়ংকর অপরাধী ও মানসিক রোগীদের নিয়ে পরিচালিত একটি মানসিক হাসপাতালের কাহিনি এটি। প্রেক্ষাপট ১৯৫০ এর দশক। যেখানে দেখা যায়, শাটার আইল্যান্ডের ওই হাসপাতালে স্ত্রীর হত্যাকারীকে খুঁজতে এসে রহস্যের মুখোমুখি হয় মার্শাল টেডি ডেনিয়েল। এক সময় বুঝতে পারে, তিনি নিজে থেকে আসেননি, তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। বাস্তব আর কল্পনার গোলকধাঁধায় ডেনিয়েলের সঙ্গে ঘুরপাক খায় দর্শকও।

ইনসেপশন: ক্রিস্টোফার নোলানের ছবিটি মুক্তি পায় ২০১০ সালে। এখানে লিও’র চরিত্র ডম কোবের। যে কিনা অন্যের স্বপ্নের ভেতর ঢুকে তথ্য চুরি করেন। এবার অন্য ধরনের কেস তার হাতে। অন্যের মন থেকে তথ্য ‍চুরি নয়, বরং নতুন তথ্য ঢুকিয়ে দিতে হবে। এতে সফল হলে ফেরারি জীবনের অবসান হবে। কিন্তু এই স্বপ্নের মাঝে হানা দেয় তার মৃত স্ত্রী।

দ্য রেভেন্যান্ট: ২০১৫ সালে ছবিটির নির্মাতা আলেহান্দ্রো গানজালেস ইনারিতু। চার-চারটি মনোনয়নের পর এই ছবির মাধ্যমে একমাত্র অস্কারটি জেতেন লিও। সেরা ছবি, পরিচালক-সহ ১২টি পুরস্কার পায়। এখানে লিও’র চরিত্রের নাম হিউ গ্ল্যাস। এই কিংবদন্তি অভিযাত্রী বনের মধ্যে ভালুক দ্বারা আক্রান্ত হয়। মৃত মনে করে সবাই তাকে ছেড়ে চলে যায়। ১৯০০ শতকের শুরুর দিকের গল্পটি চিত্রায়ণে দারুণ পরিশ্রম করেছেন সবাই। প্রতিশোধ ও পিতৃত্বের এই গল্প সবাইকে আপ্লুত করে।