শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্থির করার ছক!

‘শুদ্ধি অভিযান চ্যালেঞ্জ করছে আ.লীগের একটি অংশ’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজে অস্থিরতার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে আওয়ামী লীগের একটি অংশও জড়িত বলে মনে করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। দেশ রূপান্তরকে তারা বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্থির করে তোলার এ ষড়যন্ত্রে সরকারবিরোধী একটি অংশের যোগসাজশ তো আছেই, আছে আওয়ামী লীগের একটি অংশও।

ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যে অংশটি জড়িত তারা শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযান চ্যালেঞ্জকারী মহল। অংশটি শুদ্ধি অভিযানে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অভিযান বন্ধের চক্রান্তে নেমেছে। অভিযান অব্যাহত থাকুক তা তারা চায় না। এরই অংশ হিসেবে দলের ভেতরের এই অংশটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্থির করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্থির করে তুলতে পারলে সরকার চাপে থাকবে, শুদ্ধি অভিযান বাধাগ্রস্ত হবে এবং তারা টিকে যাবে। তাই তাদের লক্ষ্যই হলো যেকোনো মূল্যে এ অভিযান বন্ধ করে দেওয়া অথবা বাধাগ্রস্ত করা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পাবলিক

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাহাঙ্গীরনগর ও ইডেন কলেজের মতো ঘটনা আরও ঘটতে পারে। এর সঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতারাও জড়িত। আর সরকারবিরোধী যে মহলটি এর সঙ্গে জড়িত তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো সরকারকে চাপে রাখা।

জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে দলের ভেতরের একটি অংশ নানা অপকর্মে জড়িয়েছে। এত বছরে তাদের শেকড়ও অনেকদূর গজিয়ে গেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযান দলের ভেতরের সেসব নেতার মুখোশ উন্মোচন করেছে। তাদের রাজনীতি হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এখনো অনেক গডফাদার আছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা চায় তাদের পর্যন্ত পৌঁছার আগেই অভিযান বন্ধ হোক। তাই তারা নানা অপতৎপরতায় নেমেছে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থির করে তোলার পেছনে নিজের দলের প্রভাবশালী একটি অংশ জড়িত আছে। তিনি বলেন, একটি অংশ শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানকে শুরু থেকে চ্যালেঞ্জ করে আসছে। তাদের সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শেখ হাসিনা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন এবং কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। এ অভিযানে আওয়ামী লীগের যে অংশটি ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে কলকাঠি নাড়ছে। দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের অনুসারী রয়েছে। তারাই অস্থিরতার পেছনে দায়ী।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের ভেতরে একটি অংশ ও দলের বাইরের একটি অংশ মিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো টার্গেট করেছে। তারই অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে শুরু হয়েছে, ইডেনে চলছে। আরও কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দলের ভেতরের এ অংশটি চায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নাজুক পরিস্থিতি, যাতে সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযান ঝিমিয়ে পড়ে। আর এ সুযোগে তারা আবার রাজনীতিতে জায়গা করে নেবে। তিনি বলেন, এ অভিযান আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী মহলকে গুটিয়ে রেখেছে। সভাপতিম-লীর ওই সদস্য আরও বলেন, সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন চলছে, সামনে আওয়ামী লীগেরও সম্মেলন। শুদ্ধি অভিযান অনেকের রাজনীতি হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বাদের তালিকায় পড়ে গেছে অনেকে। রাজনীতিতে আধিপত্য ফিরে পেতে অপতৎপরতার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্থির করে তোলার খোলায় নেমেছে আওয়ামী লীগের ওই অংশটি।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান শুরু হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন কাজে চাঁদা দাবি করা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা শোভন-রাব্বানীকে অব্যাহতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে। এ অভিযান যখন খালেদ-সম্রাট ও জি কে শামীম পর্যন্ত পৌঁছায় এবং দলের ভেতরের অনেক প্রভাবশালীর গায়ে আঁচড় লাগায় তখনই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়ে শুরু হয় আন্দোলন। ওই আন্দোলন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে টার্গেট করা হয় ইডেন মহিলা কলেজকে। সেখানে সিট বাণিজ্য নিয়ে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। সম্পাদকম-লীর ওই নেতা বলেন, একটু তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে ইডেনের আন্দোলনকারী ছাত্রীরা কাদের ইশারায় এগুলোতে জড়িয়েছে। ওইসব নারী নেত্রীকে কারা টাকা-পয়সা, সুযোগ-সুবিধা দিত।