বিটিআরসির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ জিপির

পাওনা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা আদায়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অন্যায়ভাবে বলপ্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ এনেছে

গ্রামীণফোন। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল প্যাট্রিক ফোলি। বিটিআরসি যে নিরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে টাকা দাবি করছে, সেটিও অবৈধ বলে দাবি করেন তিনি।

বিটিআরসির দাবির মধ্যে ন্যূনতম কত টাকা দিতে পারবে, তা জানাতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে দুই সপ্তাহ সময় পাওয়ার ১১ দিনের মাথায় সংবাদ সম্মেলনে এলেন গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা। সিইও মাইকেল ফোলি বলেন, ‘যেটাকে বিটিআরসি জনগণের অর্থ বলছে, সেটা সত্য নয়। তাদের মূল দাবির ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বিষয়টিও সঠিক নয়। বিটিআরসি অন্যায়ভাবে আমাদের ওপর বলপ্রয়োগ করে বেআইনি নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে।’ অনাকাক্সিক্ষত নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে বিটিআরসি জোর করে নিজের নয়; এমন অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গ্রামীণফোনকে অনাপত্তিপত্রসহ (এনওসি) নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় ‘অবৈধ বিধিনিষেধ’ আরোপের মাধ্যমে বিটিআরসি কোম্পানির ক্ষতিসাধন করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী। একইসঙ্গে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ করছে বলেও অভিমত দেন মাইকেল ফোলি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে সভার প্রসঙ্গ টেনে গ্রামীণফোনের সিইও বলেন, ‘আইসিটি উপদেষ্টার নির্দেশনা অমান্য করছে বিটিআরসি। বর্তমানে তাদের দৃষ্টি কেবল আদালতের দিকে নিবদ্ধ।’

গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ও রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে আসছে বিটিআরসি। বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরও সেই টাকা আদায় করতে না পেরে ওই দুই অপারেটরের এনওসি বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি। এরপরও বকেয়া আদায় করতে না পেরে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে দুই অপারেটরকে নোটিস পাঠানো হয়। তবে বিটিআরসির দাবি করা টাকার অঙ্ক নিয়ে আপত্তি তুলেছে গ্রামীণফোন ও রবি।

অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির কর্মকর্তাদের মধ্যে বিষয়টি সমাধানে দুই দফা বৈঠকের পরও নিষ্পত্তি না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয় দুই অপারেটর। গ্রামীণফোন বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির অর্থ আদায়ের নোটিসের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলেও ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালতে তা খারিজ হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে তারা। গত ১৭ অক্টোবর আপিল গ্রহণ করে বিটিআরসির পাওনা আদায়ের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ৫ নভেম্বর শুনানির দিন রাখে উচ্চ আদালত। ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে বিটিআরসির আবেদনে সাড়া না দিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান তা আপিলের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির মধ্যে গ্রামীণফোন ন্যূনতম কত টাকা দিতে পারবে, তা জানতে চেয়ে আপিল বিভাগ ১৪ নভেম্বর শুনানির দিন রেখেছে।

এখনো আদালতের বাইরে আপসরফার মাধ্যমে দুপক্ষের জন্য ‘সহায়ক ও স্বচ্ছ’ সমাধানে গ্রামীণফোন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইয়াসির আজমান। তিনি বলেন, ‘গত ২২ বছরে গ্রামীণফোন ৭৩ হাজার কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা করেছে; যা শতকরা হিসাবে আমাদের আয়ের ৫৪ শতাংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ রকম একটা কোম্পানির কাছে বিটিআরসির এই বেআইনি অডিটটা যেন এভাবে না চলে, আমরা টেবিলে এসে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ এবং দুপক্ষের জন্য সহায়ক এমন সমাধান বের করে নিয়ে আসতে পারি।’

গ্রামীণফোনের প্রায় ২০টি এনওসি বিটিআরসিতে আটকে আছে জানিয়ে ইয়াসির বলেন, ‘নিরীক্ষা দাবির অর্থ নিয়ে বিরোধের কারণে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে এনওসি দেওয়া প্রায় চার মাস বন্ধ রেখেছে বিটিআরসি। এ মুহূর্তে আমরা যদি এনওসিগুলো ক্লিয়ার করতে না পারি, এ বছর বাংলাদেশে ৪০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ হবে না; যার ফলে সরকারও বিভিন্ন রকম শুল্ক পাবে না।’