পেঁয়াজ চড়ল আরও ২৫ টাকা বাঁধা দামে ব্যবসায়ীদের না

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ও শ্যামবাজার মালিক সমিতির সমন্বয়ে বেঁধে দেওয়া দাম মানছেন না ব্যবসায়ীরা। গত শনিবার বেঁধে দেওয়া দামে পণ্যটি বিক্রি না করায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে জরিমানা করে প্রশাসন। এরপর থেকেই শ্যামবাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন প্রায় সব আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে লোকসান হয়। এর প্রভাবে দুদিনের ব্যবধানে রাজধানীসহ দেশে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম খুচরায় ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সরকার, ব্যবসায়ী ও মালিক সমিতির সমন্বয়ে পাইকারিতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৯০, মিয়ানমারের ৮৫ এবং মিসর, তুরস্ক ও চীনের ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ বিষয়ে শ্যামবাজার বণিক সমিতির সহসভাপতি ও আমদানিকারক আবদুল মাজেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্ধারিত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করলে লোকসান হয়। মিয়ানমার থেকে এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে হয় ৮২-৮৫ টাকা দামে। এরপর যাতায়াত খরচসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে কেজিতে ৯৫ টাকা পড়ে যায়। আবার বেশিরভাগ চালানই পচা আসে। এখন এই পেঁয়াজ যদি ৮৫ টাকায় বিক্রিতে বাধ্য করা হয় তাহলে ব্যবসায়ীরা আমদানি করবে কেন?’ দাম নির্ধারণের সময়ে আমদানিকারকরা এ বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা শোনে কে? আমাদের প্রশাসন জেল-জরিমানার ভয় দেখায়। তাই সরকার যা বলেছে তা মেনে নিয়েছি। এখন যারা আমদানি করছে তারা লোকসান ও জেলের ভয়ে

শ্যামবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি না করে সরাসরি পাইকারদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমছে, আবার দামও বেড়েছে।’

গতকাল সোমবার শ্যামবাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ আড়তে পেঁয়াজ নেই। কর্মরতরা অলস সময় পার করছে। যেসব দোকানে স্বল্পসংখ্যক পেঁয়াজ আছে সেখানে পাইকারদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বেশিরভাগ পাইকারই পেঁয়াজ কিনতে পারেননি। আবদুর রাজ্জাক নামে এক আড়তদার বলেন, ‘লোকসান হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা আড়তে পেঁয়াজ তুলছে না। বেশি চাপাচাপি করলে এমন অবস্থাই হয়। ব্যবসায়ীদের তো কাজ নেই ১২০ টাকায় পেঁয়াজ কিনে ৯০ টাকায় বিক্রি করবে। আবার কথা বলতে গেলে জেল-জারিমানা করবে। এবার বুঝুক মজা।’ আলী ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক বলেন, ‘কালকে থেকে পেঁয়াজ আসছে না। তাই বেচা-বিক্রি বন্ধ। সব আড়তেরই এক অবস্থা।’

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর পেঁয়াজের দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘পেঁয়াজের দাম ভারত বাড়িয়ে দেওয়ার পর সুযোগ বুঝে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়িয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম নিয়ন্ত্রণের। দুই শতাধিক মামলাও করেছি। তবে যেহেতু দেশেও মৌসুমের প্রায় শেষ সময়, আবার ভারতের পেঁয়াজও আসছে নাÑ তাই ব্যবসায়ীদের বাড়তি চাপ দিচ্ছি না। তাহলে সিন্ডিকেট আরও দাম বাড়াতে পারে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্যামবাজারে পেঁয়াজ না থাকার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর খুচরা বাজারে। বিক্রেতারা বাড়তি দাম দিয়ে মজুতদারদের থেকে পেঁয়াজ কিনছেন। এতে দুদিনের ব্যবধানে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত শনিবার বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ১১৫-১২০ টাকা। কিন্তু গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজার, কাঁঠালবাগান, হাতিরপুলের খুচরা বাজারে কেজিতে ১৪৫ টাকা পর্যন্ত দাম নিয়েছেন বিক্রেতারা। এছাড়া মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১২৫-১৩০ ও মিসরের ১১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজ নেই। অনেক চেষ্টা করে বাড়তি দামে পাঁচ বস্তা পেঁয়াজ নিয়েছি। তাই দাম বাড়তি।’ ওই বাজারের ক্রেতা সাদ বলেন, ‘এক দিন দাম কমে তো আরেক দিন বাড়ে। বুঝলাম না পেঁয়াজের বাজারে হচ্ছেটা কী?