প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। তার সঙ্গে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আলবারো গার্থিয়া লিনেরাও পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
পদত্যাগের ঘোষণায় মোরালেস বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করছি। আমার পদত্যাগপত্র আইনসভার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আদিবাসী প্রেসিডেন্ট ও সকল বলিভিয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শান্তির চেষ্টা করা আমার দায়িত্ব।’
পদত্যাগের ঘোষণার পর এক টুইটবার্তায় মোরালেস তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের কাছে ‘অবৈধ’ একটি পরোয়ানা আছে এবং ‘সহিংস গোষ্ঠীগুলো’ তার বাড়ি আক্রমণ করেছে বলে অভিযোগ করেন। যদিও বলিভিয়া পুলিশের কমান্ডার মোরালেসকে গ্রেপ্তারের কোনো পরোয়ানা তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন। গত রবিবার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো গত ২০ অক্টোবরের ভোটে ‘জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ’ পেয়েছে জানিয়ে নির্বাচনের ফল
বাতিলের আহ্বান জানায়। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস (ওএএস) জানায়, ব্যাপক জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে আর তারা ভোটের ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবে না। তাদের সঙ্গে একমত হয়ে মোরালেস নির্বাচন কমিশন সংস্কার করার পর নতুন নির্বাচনের ডাক দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু তার এ ঘোষণা মেনে না নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা, সেনাবাহিনী প্রধান ও পুলিশ প্রধান তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। যার পরিপ্রেক্ষিতে টেলিভিশনে এক ভাষণে মোরালেস পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বলিভিয়া অস্থির হয়ে ছিল। তারপর থেকে চলা অস্থিরতায় অন্তত তিন জন নিহত হন। এক পর্যায়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উর্দি পরা কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকেও অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মোরালেসের ওপর চাপ বাড়তে শুরু করে। তার কয়েকজন রাজনৈতিক মিত্র পদত্যাগ করেন।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি প্রথম প্রেসিডেন্ট মোরালেস ১৪ বছর ধরে একটানা বলিভিয়ার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার আমলে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং বলিভিয়ার দারিদ্র্যের হার কমে অর্ধেকে নেমে আসে। তারপরও চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনেকের পাশাপাশি নিজ মিত্রদের অনেকের সঙ্গেও তার দূরত্ব তৈরি হয়।