দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাসে না আসায় ২৬০ জন শিক্ষার্থীকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এসব শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, দিনের পর দিন ক্লাস করার তাগিদ দিলেও শিক্ষকদের কোন কথাই কর্ণপাত করেনি শিক্ষার্থীরা। এজন্যই অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে দিনাজপুর মহিলা কলেজের সামনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় লক্ষ করা যায়।
দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৯২ জন। মানবিক বিভাগে ছাত্রীর সংখ্যা ২৯৪ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ২৩৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১০০ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে ৬৩২ জন এবং পরীক্ষা দিতে পারছে না ২৬০ জন শিক্ষার্থী।
তবে নিয়মিত যারা ক্লাস পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল সেসব শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র দেখিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে।
একাদশ শ্রেণির ছাত্রী তামান্না তাসনিম রুমা বলেন, ‘আমরা নিয়মিত ক্লাস করেছি। প্রতিদিন আমাদের ৬টি করে ক্লাস হত। নিয়মিত ক্লাস করার ফলে আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু যারা কলেজে ভর্তি হয়ে ক্লাস করেনি এমন শিক্ষার্থীদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি’।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা নিয়মিত ক্লাস করিনি। ক্লাস করলে প্রাইভেট কোচিং করার সময় পাওয়া যায় না। আবার অন্যান্য সরকারি কলেজে দুপুর ১টার মধ্যেই ছুটি হয় কিন্তু আমাদের এখানে বিকেল আড়াইটার পর ছুটি দেয়। এ জন্য অনেকেই ক্লাসে আসি না।’
দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামসুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের দফায় দফায় নিয়মিত ক্লাস করার জন্য বলেছি। মোবাইল ফোনে সকল অভিভাবকদের মেসেজও প্রদান করা হয়। অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশও করেছি কিন্তু তারপরেও যখন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসে না তখন আমাদেরই খারাপ লাগে। অনেকদিন আগে থেকে বলার পরেও যারা ক্লাস করেনি তাদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা দিতে দেওয়া হচ্ছে না’।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, ‘দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির বেশ কিছু শিক্ষার্থীদের ক্লাস না করায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। একজন শিক্ষার্থীর কাজ হলো ক্লাস পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকা। আমরাও চেষ্টা করছি সব প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়ম তৈরি করার।’